ময়মনসিংহে মোহনগঞ্জগামী চলন্ত ট্রেনে ভাসমান এক নারী সন্তান প্রসব করেছেন। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও ছাত্রদলের এক নেতার সহায়তায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছে মা ও নবজাতক।
গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মোহনগঞ্জগামী ‘হাওর এক্সপ্রেস’ ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি মো. আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’–এ ফোনে খবর আসে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটিতে অন্তঃসত্ত্বা এক নারী আছেন। তিনি প্রসব ব্যথায় ভুগছেন। সঙ্গে সঙ্গে তারা সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। একই সময় ‘৯৯৯’–এ থেকে ফোন পেয়ে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে স্টেশনে হাজির হয় ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস। তবে ট্রেনটি ময়মনসিংহ স্টেশনে প্রবেশের কিছুক্ষণ আগে সন্তান প্রসব করেন। খবর বিডিনিউজের।
ওসি আক্তার হোসেন বলেন, পরে অপর দুই নারী যাত্রীর সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অ্যাম্বুলেন্সে তুলে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সবশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নবজাতক ও মা ভালো আছেন। স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, ২৪ বছরের ওই নারী কমলাপুর স্টেশন থেকে হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন। তার সঙ্গে চার বছর বয়সী এক সন্তান ছিল। ট্রেনটি গফরগাঁও স্টেশন ছেড়ে আসলে ওই নারীর তীব্র ব্যথা উঠে। পরে ওই ট্রেনে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের যুগ্ম–আহ্বায়ক ও একই হলের ডাকসুর সদস্য সোলায়মান হোসাইন রবি ওই নারীকে সার্বিক সহায়তা দিয়ে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত নিয়ে আসেন।
ছাত্রনেতা সোলায়মান বলেন, রাতে বগিতে তীব্র প্রসব বেদনায় একজন প্রসূতি বোন কাতরাতে থাকেন। এ সময় তার পাশে কেউ না থাকায় বগি থেকে মহিলাদের ডেকে আনি এবং ডেলিভারি সম্পন্ন করার চেষ্টা করি। প্রায় দেড় ঘণ্টার তীব্র বেদনা শেষে ট্রেনটি ময়মনসিংহ স্টেশনে আসতেই ফুটফুটে ছেলে নবজাতকের জন্ম হয়। এ সময় পুরো স্টেশনে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, গফরগাঁও স্টেশন থেকে ছেড়ে আসতেই ওই নারীর তীব্র প্রসব ব্যথা শুরু হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’–এ কল করে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা চাওয়া হয়। স্টেশনে প্রবেশের আগেই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে প্রস্তুত ছিল। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বুধবার ভোর ৬টার দিকে বাচ্চাসহ ওই নারীকে তার স্বামীকে নিয়ে চলে যান বলে জানান ছাত্রনেতা সোলায়মান।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের লিডার সাইফুল ইসলাম বলেন, দুই নারী যাত্রীর সহায়তায় মা ও নবজাতককে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে হাসপাতালে পৌঁছে দেই। পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে আমরা চলে আসি। শুনেছি বাচ্চা ও মা ভাল আছেন।










