চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রামের সুফি সাধক শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (ক.) ট্রাস্টের উদ্যোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) আধুনিকায়ন কাজ সমাপ্ত হয়েছে। আমাকে ডাক্তাররা জানিয়েছেন, এখানে উন্নত বেডসহ নানা যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হয়েছে। এই জনহিতকর কাজের জন্য আমি ট্রাস্টের সাথে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
গতকাল বুধবার সকাল ১১টার দিকে চমেক হাসপাতালের হৃদরোগ অত্যাধুনিক সিসিইউ’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (ক.) ট্রাস্ট সকল সুবিধা সম্বলিত অত্যাধুনিক এই সিসিইউ পুনঃনির্মাণ করে দেয়।
সিটি মেয়র আরো বলেন, আধুনিক এই সিসিইউ’তে বৃহত্তর চট্টগ্রামের রোগীরা উন্নত সেবা পাবেন। আমরা দেখি, আমাদের বেশিরভাগ রোগী, দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে চলে যাচ্ছে। এতে আমাদের টাকাগুলো দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমাদের এই টাকাগুলো যদি আমাদের অর্থনীতিতে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের মধ্যে ঘুরতে থাকে, তাহলে আমাদের জিডিপিতে (মোট দেশজ উৎপাদন) সেটি প্রভাব পড়বে। জিডিপিও আরও বেশি শক্তিশালী হবে। তাই আমরা মনে করি, এটা শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, এটা বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার একটা নতুন সূচনা। আজকে শাহেনশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (ক.) ট্রাস্ট করেছেন। আগামীতে ওনাদের পথ ধরে যদি আরও ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এগিয়ে আসেন, তবে চট্টগ্রামের সরকারি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা আরো বেশি সমৃদ্ধ হবে। কারণ এই চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রায় গরীব রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন।
নিজের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে ডা. শাহাদাত বলেন, বাংলাদেশের কোনো শহরে নগর সরকার নেই। আপনি চিন্তা করেন। অথচ পৃথিবীর অনেক দেশে নগর সরকার আছে। যার কারণে আপনারা ওই শহরগুলোতে গেলে অবাক হয়ে যাই। শহরটা এত সুন্দর কেন? কারণ এখানে পরিকল্পিত নগরায়ন হচ্ছে। আমাদের দেশে যদি নগর সরকার থাকতো, তবে শুধু স্বাস্থ্য বিভাগ না, প্রত্যেকটা জায়গায় যেটা আমাদের দেশের মানুষের জন্য কল্যাণজনক সেটি আমরা করতে পারতাম।
চমেক হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. নূর উদ্দিন তারেকের সভাপতিত্বে এবং সহযোগী অধ্যাপক ডা. কাজী শামীম আল মামুনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, হৃদরোগ বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা. মনজুর মোরশেদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. ইব্রাহিম চৌধুরী, সহযোগী অধ্যাপক ডা. আনিসুল আউয়াল, শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট্রের সচিব অধ্যাপক এ ওয়াই এমডি জাফর, চমেক হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ন্যাশনাল ডক্টর ফোরাম (এনডিএফ) চমেক শাখার সভাপতি ডা. মাহমুদুর রহমান, মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও এনডিএফ চমেক শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. এস.এম কামরুল হক। অনুষ্ঠানে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (ক.) ট্রাস্টের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইফুদ্দিন মাহমুদ। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন হৃদরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এস এম ইফতেখারুল ইসলাম। এছাড়া অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চমেক উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবদুর রব, শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিএমএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) চমেক শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, ড্যাব চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী, চট্টগ্রাম কিডনি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার কামালুর রহমান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (ক.) ট্রাস্টের অর্থায়নে চমেক হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সিসিইউ’র বেড সংখ্যা ১৫ থেকে বৃদ্ধি করে ২৩টি করা হয়েছে। প্রতিটি বেডের সাথে উন্নত মনিটর, ৪০টি ইনফিউশন পাম্প, ছয়টি টেম্পোরারি পেসমেকার মেশিন (টিপিএম), একটি ইকো মেশিন, দুটি ইসিজি মেশিন, দুটি ট্রলি বেড, ১৫টি হুইল চেয়ার ও ২টি ক্র্যাশ কার্ট ট্রলি যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সেন্ট্রাল এসি, মেডিসিন স্টোর রুম, ডক্টরস স্টেশন, নার্স স্টেশন, ইসিজি রুম ও পেশেন্ট রিসিভিং রুম নতুন রূপে তৈরি করা হয়েছে আধুনিক এই সিসিইউতে।











