কেপ ভার্দের কাছে আটকে গিয়েছিল স্পেন। এ বার তাদের প্রতিবেশী দেশ পর্তুগালও শুরু করল হোঁচট খেয়ে। গতকাল বুধবার ডিআর কঙ্গোর কাছে আটকে গেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলেও খুঁজে পাওয়া গেল না রোনালদোকে। তিনি ছিলেন পুরোই নিষ্প্রভ। পর্তুগালের হয়ে বড় কোনো টুর্নামেন্টে টানা ১০ ম্যাচে গোল করতে পারেননি তিনি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তার ক্ষেত্রে এ রকম আর কখনো ঘটেনি। অপরদিকে রোনালদোর চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের যে হুঙ্কার ছুড়েছিলেন ইয়োয়ান উইসা, মাঠে ঠিক তাই করে দেখালেন তিনি ও তার সতীর্থরা। ধীর গতির ও ধারহীন ফুটবলে যার জবাব খুঁজে পেল না পর্তুগাল। বিশ্বকাপ অভিষেকে আসরের এক ফেভারিটকে রুখে দেওয়ার কীর্তি গড়ল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো।
এর আগে অবশ্য একবার বিশ্বকাপ খেলেছিল দেশটি, ১৯৭৪ আসরে। তবে, সেই সময় দেশটির নাম ছিল জায়ার। ওই আসরে তিন ম্যাচ মিলিয়ে তাদের স্কোরলাইন ছিল ১৪–০।
হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে গতকাল বুধবার রাতে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় পর্তুগাল। আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সে সেই ধাক্কা সামলে সমতা টানে আফ্রিকার দলটি। শেষ পর্যন্ত ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচটি ১–১ গোলে ড্র হয়েছে।
ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময়ই ক্লান্তিকর ফুটবল খেলেছে পর্তুগাল। প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় বল দখলে রাখলেও, তাদের আক্রমণে পরিকল্পনার অভাব ছিল স্পষ্ট। ছোট ছোট পাসে আক্রমণে উঠে বারবার খেই হারিয়েছে দলটি। এতে প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণের কৃতিত্ব থাকলেও, রোনালদো–নেভেসদের সহজে বল হারানোর দায়ও আছে অনেক।
মেসি, আর্লিং হালান্ড, কিলিয়ান এমবাপে– এই মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলে যাদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়, তারা প্রত্যেকেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে গোল পেয়েছেন। মেসি তো হ্যাটট্রিকও করেছেন। ফলে বুধবার রোনালদো কী করেন তার দিকে অনেকেরই নজর ছিল। প্রথম দিনই তারা হতাশ হয়ে পড়লে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। রোনালদো আগাগোড়া যা খেললেন তাতে তাকে প্রথম একাদশে জোর করে রাখা হচ্ছে কি না, সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। প্রসঙ্গত, এদিন দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডে ভাগ বসালেন রোনালদো। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে শুরুর একাদশে মাঠে নামার রেকর্ডও গড়েন তিনি (৪১ বছর ১৩২ দিন); কিন্তু বিশেষ উপলক্ষ রাঙিয়ে রাখার মতো কিছুই করতে পারেনেনি পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। বরং মাঠে তার গতিহীন মুভমেন্টে যেন বয়সের ভারই বেশি ফুটে উঠল।
কাতার বিশ্বকাপে রোনালদোর সঙ্গে তৎকালীন পর্তুগালের কোচ ফের্নান্দো সান্তোসের ইগোর লড়াই নিয়ে চর্চা হয়েছিল। রোনালদোকে প্রথম একাদশে রাখতেন না সান্তোস, যা নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। বিশ্বকাপের পর চাকরিও যায়। পর্তুগালের কোচ হওয়ার পর রবার্তো মার্তিনেজ ঘোষণা করেছিলেন, তার দল হবে রোনালদোকে ঘিরেই। তাই দলে একাধিক নেতা থাকা সত্ত্বেও রোনালদো প্রথম একাদশে তো ছিলেনই, তার হাতেই উঠেছিল অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। এ দিন হাতে গুণে বলা যাবে, ক’টি বল ধরেছেন তিনি। না একটি ভাল সুযোগ তৈরি করতে পেরেছেন, না বাকিদের করে দেওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছেন। দ্বিতীয়ার্ধে যে দু’টি বল রোনালদোর উদ্দেশে বাড়িয়েছিলেন ফ্রান্সিসকো কনসেসাও, তার অন্তত একটি থেকে গোল করার যথেষ্ট সুযোগ ছিল। রোনালদো দুইবারই বলে ঠিকঠাক পা লাগাতে পারেননি। হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন।












