চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ পরীক্ষায় মোট উপস্থিতি ছিল ৯১ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং অনুপস্থিত ৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে। তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র মিলিয়ে এ উপস্থিতির হার নির্ধারিত হয়। এ ইউনিটের কো–অর্ডিনেটর ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. গোলাম কিবরিয়া উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র মিলিয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৯১ দশমিক ১৪ শতাংশ। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যার হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।
এ বছরের ভর্তি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪টি ইউনিট ও ৩টি উপ–ইউনিটে মোট ৪ হাজার ১৬৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৩৩ হাজার ৩২৭ জন শিক্ষার্থী। সে হিসেবে প্রতি আসনের বিপরীতে প্রতিযোগিতা করছেন গড়ে ৬৫ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে ক্যাম্পাসজুড়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহায়তায় কাজ করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু), ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রী সংস্থা, ছাত্র মজলিসসহ বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনগুলো।
সরজমিনে দেখা যায়, চাকসুর উদ্যোগে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি স্থানে তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেগুলো হল জিরো পয়েন্ট, শহীদ মিনার, চাকসু প্রাঙ্গণ, নিরাপত্তা দপ্তর মোড়, ইঞ্জিনিয়ারিং অফিস প্রাঙ্গণ এবং সাইয়েন্স ফ্যাকাল্টি এলাকা। এ ছাড়া অভিভাবকদের জন্য বুদ্ধিজীবী চত্বর, জারুলতলা, বিজ্ঞান অনুষদ, নতুন কলা ভবন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ও জীববিজ্ঞান অনুষদে মোট ছয়টি প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হয়। জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য ছিল দুটি মেডিকেল বুথ।
খাবারের দোকান ও যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা অনিয়ম ঠেকাতে চাকসুর পক্ষ থেকে তিনটি টহল টিম গঠন করা হয়। পাশাপাশি অনিয়ম জানাতে নির্ধারিত নম্বরও প্রকাশ করা হয়। অন্যদিকে শাখা ছাত্রদল সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিনের নেতৃত্বে জিরো পয়েন্ট ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের পাশে ইনফরমেশন বুথ স্থাপন করে শাখা ছাত্রদল। সেখানে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য কলম ও পানির বোতল সরবরাহ করা হয়। শাখা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তথ্যকেন্দ্র এবং চাকসু ভবনের সামনে একটি অভিভাবক প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হয়। সেখানে সকালের নাস্তা, পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।
চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, আমরা চাকসুর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। এ বছর ছাত্র সংসদ থাকায় আগত শিক্ষার্থীরা আগের বছরের তুলনায় ভালো অভিজ্ঞতা পেয়েছে বলে আমরা মনে করি।
শাখা ছাত্রদল সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, সম্প্রতি আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন। আমরা এখনো শোক কাটিয়ে উঠতে পারিনি। তারপরও বিশ্ববিদ্যালয়ে আগত ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহায়তায় আমরা কাজ করছি। জিরো পয়েন্ট ও বিবিএ অনুষদ এলাকায় আমাদের প্রায় দুইশ স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছে।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমরা প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। চবির এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ইনফরমেশন বুথ ও একটি অভিভাবক প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হয়েছে। আমাদের প্রায় দুইশ স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে।
ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া রায়হান আহমেদ নামের এক পরীক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসে ঢোকার পর থেকেই বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতা পেয়েছি। দিকনির্দেশনা ও পরিবেশ সব মিলিয়ে পরীক্ষা দিতে কোনো সমস্যা হয়নি। আরেক পরীক্ষার্থী তাসনিম বলেন, চাকসুর তথ্যকেন্দ্র থেকে পরীক্ষার ভবন খুঁজে পেতে অনেক সুবিধা হয়েছে। অভিভাবকদের বসার ব্যবস্থাটাও খুব ভালো ছিল, এতে মানসিকভাবে স্বস্তি পেয়েছি। সব মিলিয়ে মোটামুটি ভালো একটা পরীক্ষা দিয়েছি। আশা করি ভালো কিছু হবে।
আজ ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা : চবি ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি আসনের বিপরীতে লড়বেন প্রায় ৬০ জন পরীক্ষার্থী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে একযোগে এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্যসচিব এস এম আকবর হোসাইন জানান, ‘ডি’ ইউনিটে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধীনে ৯টি বিভাগ, আইন অনুষদের আইন বিভাগ, শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগ এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত দুটি বিভাগ রয়েছে। এ ইউনিটে মোট আসন সংখ্যা ৮৪৯টি। এসব আসনের বিপরীতে মোট আবেদন জমা পড়েছে ৫১ হাজার ৫০৫ জন শিক্ষার্থীর। সে হিসাবে প্রতিটি আসনের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৬০ জন পরীক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, পরীক্ষার্থীদের সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তিনটি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০ হাজার ৫৪২ জন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ২৩ হাজার ৩৬৬ জন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭ হাজার ৫৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন।
সকাল সাড়ে ১০টায় শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। বেলা ১১টায় ওএমআর শিট দেওয়া হবে। বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হবে বেলা ১২টা ১৫ মিনিটে। এ বছর ভর্তি পরীক্ষা বহুনির্বাচনি পদ্ধতিতে (এমসিকিউ) ১০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা যাবে। ‘ডি’ ইউনিটে ন্যূনতম পাস নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০।
উল্লেখ্য, আজ ৩ জানুয়ারি প্রথম বর্ষের ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার একই দিনে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) আয়োজনে ভাটিয়ারি ইন্টারন্যাশনাল ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে ভাটিয়ারী–হাটহাজারী লিংক রোড সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার নির্দেশনা দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত থাকার এবং প্রশাসনের দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।












