চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের পরীক্ষার সময় সূচিতে “শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ স্লোগান লিখে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে পতিত শেখ হাসিনার বন্দনা করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার অভিযোগ উঠেছে।
রুটিনে এই স্লোগান সংযুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস জুড়ে চলছে নানান আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি ড. রকীবা নবী স্বাক্ষরিত ২য় বর্ষ স্নাতকের (সম্মান) এক পরীক্ষা সূচির বিজ্ঞপ্তিতে এই লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
রুটিন পর্যালোচনায় দেখা যায়, আইন বিভাগের ২য় বর্ষের পরিক্ষার রুটিনের উপরের মধ্যবর্তী স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল লোগোর নিচে “শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ” স্লোগানটি লেখা রয়েছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের বিভাগের প্রধান ড. রকিবা নবী নিজেই একজন আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর। এর আগে এই তিনিই জুলাইবিরোধী নৃশংস আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী শিক্ষক রোমান শুভকে হল গার্ড দেওয়ার জন্য ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছিলেন।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, সকাল থেকে বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শেখ হাসিনার যে কুকর্ম এটা সবাই জানে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো এমন ঘটনাকে আমরা ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছি। ঘটনাটি ইতোমধ্যে আমাদের চাকসুর জিএস উপাচার্যকে জানিয়েছেন, সশরীরে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে কথা বলব।
এ বিষয়ে আইন অনুষদের ডিন ড. মু. জাফর উল্লাহ তালুকদার বলেন, “এ বিষয়ে আপনি বিভাগ থেকে তথ্য নেন, বিভাগের চেয়ারম্যান আপনাকে ভালো বলতে পারবে।”
এ বিষয়ে আইন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. রকিবা নবীর বলেন, “জুলাই পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার স্লোগান সম্বলিত প্যাডগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। তবে এই স্লোগান সম্বলিত প্যাড কোথা থেকে আসলো এটা আমি ঠিক জানিনা। প্রতিদিনই বিভিন্ন কাজে অনেক প্যাড স্বাক্ষর করতে হয়। এটাতেও আমি বাকি ইনফরমেশন চেক করে স্বাক্ষর করে দেই। কিন্তু এখানে যে এই স্লোগান আছে এ বিষয়টি আমি খেয়াল করিনি। এই স্লোগান সম্বলিত প্যাডটি অনিচ্ছাকৃতভাবে দেয়া হয়েছে। এটা কিভাবে আসলো ঠিক জানিনা আমি।” তবে জানা গেছে ড. রকিবা নবী বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দলের সদস্য।
এই সম্পর্কে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।












