চবির এ ইউনিটে তৃতীয় স্থান, রাবির ভর্তি পরীক্ষায় নকল করে ধরা

কেন্দ্রে এআই ব্যবহার করে উত্তর খুঁজছিলেন তিনি ফলাফল খতিয়ে দেখছে চবি কর্তৃপক্ষ

চবি প্রতিনিধি | রবিবার , ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২৫২৬ শিক্ষাবর্ষের এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় স্থান অর্জন করা এক শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভর্তি পরীক্ষায় নকলের অভিযোগে আটক হয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম দিব্য জ্যোতি সাহা। গত শুক্রবার সকাল ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সময় তাকে আটক করা হয়। রাবির ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রথম শিফটে জগদীশ চন্দ্র বসু কেন্দ্রের ১০২ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা চলাকালে স্মার্টফোন ব্যবহার করে ‘ডিপসিক’ নামের একটি এআই অ্যাপের মাধ্যমে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছিলেন তিনি।

আটক হওয়া দিব্য জ্যোতি সাহা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনি প্রশ্নে ৮৭.৫০ নম্বর পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। গত ৭ জানুয়ারি এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। চবির ভর্তি পরীক্ষায় তার রোল নম্বর ছিল ১০০২২২। তিনি শাহ চঞ্চল কুমার ও আলপনা সাহা দম্পতির সন্তান। তার বাড়ি খুলনায়। তিনি ঢাকার বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থী ছিলেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় হয়ে তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘পুরাই আনএঙপেকটেড, চট্টগ্রাম ঘুরতে গিয়ে তৃতীয় হওয়ার যে ব্যাপারটা!’ এই লেখার স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় প্রশ্ন উঠেছে, চবির পরীক্ষার হলেও কি তিনি ফোন ব্যবহার করে জালিয়াতি করেছেন?

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নকলকাণ্ডে আটকের বিষয়টি জানাজানি হলে তা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরবর্তীতে তার ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল সংক্রান্ত নথিপত্র চবির আইসিটি সেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক সাইদুর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, এই শিক্ষার্থীর ফলাফল সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র ভিসি, প্রোভিসি এবং এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার কোঅর্ডিনেটরের নিকট পাঠানো হয়েছে।

নকলের অভিযোগে আটক হওয়া এই শিক্ষার্থীর বিষয়ে খুব দ্রুত বৈঠকে বসতে যাচ্ছে চবির কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটি। এ প্রসঙ্গে চবি উপউপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, এই বিষয়টি কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটিতে পেশ করা হয়েছে। পরীক্ষা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আমরা তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিব। একই সঙ্গে চবির ভর্তি পরীক্ষায় দিব্য জ্যোতি সাহা কোনো ধরনের অসদুপায় অবলম্বন করেছিলেন কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, যেহেতু এই শিক্ষার্থীর রাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় নকলকাণ্ডে আটকের ঘটনা ঘটেছে, তাই বিষয়টিকে আমরা ছোট করে দেখছি না। আমরা এটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচন্দনাইশে দুই জুলাইযোদ্ধার ওপর সশস্ত্র হামলা
পরবর্তী নিবন্ধহাতিয়ার নয়, ভাসানচর সন্দ্বীপের