চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে রামদা হাতে আবাসিক হলের ভেতর হামলার চেষ্টাকালে নূর ইসলাম বিপ্লব ওরফে ‘আতঙ্ক বিপ্লব’ নামে এক নিরাপত্তা কর্মীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত বুধবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলে এই ঘটনা ঘটে। আটককৃত বিপ্লব আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘আইএসএস’–এর কর্মী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী। জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বিপ্লবের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন কেনে। চোরাই মোবাইল ফোন কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিপ্লবের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হল সাকিবুল হাসান, আরাফাতুল ইসলাম ফাহিম ও নাইম হাসান। তারা সকলেই চবি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী। তারা বিপ্লবের কাছ থেকে একটি চোরাই মোবাইল ফোন কিনলেও পরে সেটি আবার ফেরত চায় বিপ্লব। সাকিব ও তার বন্ধুরা টাকার বিনিময়ে মোবাইল ফেরত দিতে চাইলে বিপ্লব টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
টাকা ফেরতের বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাবেদ বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। বিপ্লবের বাবা শাহ আমানত হলের বাবুর্চি হওয়ায় সমঝোতার জন্য উভয় পক্ষকে সেখানে ডাকা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমঝোতা চলাকালীন বিপ্লব হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে একটি রামদা হাতে হলের ভেতর প্রবেশ করে এবং ফোনের ক্রেতাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। এসময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাকে হাতেনাতে আটক করে প্রক্টরিয়াল বডিকে খবর দেয়।
আটকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিপ্লব নিজেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ইকবালের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। বিপ্লব দাবি করে, ফোনের ক্রেতারা আগে ছাত্রলীগ করলেও এখন ছাত্রদলের সঙ্গে উঠাবসা করেছে। এদিকে, প্রক্টরিয়াল বডি ফোনের ক্রেতাদের মোবাইল পরীক্ষা করে তাদেরও ছাত্রলীগের সাবেক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে। জানা গেছে, অভিযুক্ত এবং ভিকটিম উভয় পক্ষই পরস্পরের পূর্বপরিচিত এবং অতীতে একসঙ্গে ছাত্রলীগের রাজনীতি করত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সংবেদনশীল স্থানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীকে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। শাহ আমানত হল সংসদের প্রতিনিধি আকাইদ বলেন, হলে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত গার্ড নেই। আজ যেভাবে একজন রামদা হাতে ভেতরে ঢুকেছে, তাতে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটতে পারত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দি বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে স্বীকার করেছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা চলছে, তাই সার্বিক নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রক্টর আরো বলেন, অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।












