স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশের সমর্থন নিয়ে ২০২৪ সালে চন্দনাইশ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জসিম উদ্দিন আহমেদ। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলনে রাজধানীর বাড্ডার এক হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে কারাগারেও যান তিনি। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীর নানা অভিযোগও রয়েছে। সেই জসিম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন জানাজানি হওয়ার খবরে ক্ষোভ জানিয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।
জসিম উদ্দিন আহমেদ আজাদীকে জানিয়েছেন, তাকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এ সময় বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়ার চিঠি পেয়েছেন কীনা জানতে চাইলে বলেন, ‘ওটা কাল (আজ) সবার সামনে প্রকাশ করব’। এদিকে জসিমকে দলের মনোনয়ন দেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজাদীকে বলেন, জসিমের বিষয়ে দলে আলোচনা হয়েছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম–১৪ আসন থেকে এবার বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মহসিন জিল্লুর করিম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম–আহ্বায়ক ও চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আনোয়ার চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ–সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম রাহী ও এম. এ. হাশেম রাজু।
শফিকুল ইসলাম রাহী আজাদীকে বলেন, আমিসহ বিএনপির ছয়জন দল থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলাম। এদের যে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে দল অবশ্যই উপকৃত হতো। কারণ ৬জনই বিএনপির কর্মী। এর বাইরে যাকে দেয়ার কথা শুনা যাচ্ছে তিনি বিএনপির কেউ না। তাকে মনোনয়ন দিলে তৃণমূলে কি ম্যাসেজ যাবে?
এদিকে জসিমের মনোনয়নের খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে জসিম উদ্দিনের ছবি শেয়ার করে প্রশ্ন তুলেছেন তার রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থান নিয়ে। তার বিরুদ্ধে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও শহিদুল হকের ঘনিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
উল্লেখ্য, বিএনপি ছেড়ে ২০০৬ সালে নতুন দল ‘লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি’ (এলডিপি) গঠন করেন কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গেই ছিল এলডিপি। তাই বিগত কয়েকটি সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনটি জোটের শরীকদল এলডিপিকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। কিন্তু গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটে যোগ দিয়েছে এলডিপি। ফলে এ আসনটি এবার এলডিপিকে ছাড়বে না বিএনপি।












