চন্দনাইশে বাক্‌ প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে হত্যা

মাদকাসক্ত স্বামী আটক, মাদকের টাকার জন্য বিক্রি করেছিল দুই শিশু কন্যাকে

চন্দনাইশ প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ

চন্দনাইশে মাদকাসক্ত স্বামীর হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছে ৪ কন্যা সন্তানের এক জননী। তার নাম সালমা আকতার (৩৫)। সে বাকপ্রতিবন্ধী। তার সর্বকনিষ্ট শিশুর বয়স মাত্র ১২ দিন হয়েছে। গত রবিবার রাতে উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার জামিজুরী এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পরপর তার পাষণ্ড স্বামী নুরুল হুদা পারভেজ (৪৫) পালিয়ে যায়। পরে গতকাল রাত সাড়ে ৭টার দিকে দোহাজারী স্টেশন রোড এলাকা থেকে তাকে আটক করে জনতা। পরে তাকে চন্দনাইশ থানায় হস্তান্তর করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোহাজারী জামিজুরী ৬নং ওয়ার্ডের ইসহাক মিয়ার ছেলে নুরুল হুদা পারভেজ এলাকায় চুরিচামারি করতো এবং মাদকাসক্ত ছিল। গত ৫ থেকে ৬ বছর পূর্বে সে সালমা আকতার নামে বাক্‌প্রতিবন্ধী মহিলাটিকে কোথা থেকে নিয়ে এসে সংসার শুরু করে। প্রায় সময় সে তার স্ত্রীকে ব্যাপক মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। ইতিমধ্যে তাদের সংসারে জন্ম নেয় ৪টি কন্যা সন্তান। ৪ বছর আগে প্রথম সন্তান জন্ম নেয়ার পর মাদকের টাকার জন্য শিশুটিকে বিক্রি করতে চেয়েছিল নুরুল হুদা। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের এবং প্রতিবেশিদের বাধারমুখে বিক্রি করতে পারেনি।

মেয়েটি তার দাদীর সাথে থাকে। এরপর তার ২য় ও ৩য় কন্যা সন্তান জন্ম নেয়ার পর তাদের বিক্রি করে দেয়। সর্বশেষ গত ১২ দিন আগে তার ৪র্থ কন্যা সন্তান জন্ম নিলে সে শিশুটিকেও বিক্রি করার চেষ্টা করছিল এবং বাধারমুখে শিশুটি বিক্রি করতে পারছিল না। এতে প্রতিদিন সে তার বাক্‌প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে মারধর করতো। ১২ দিন আগে তার সন্তান প্রসব হলেও ডাক্তারের কাছেও নিয়ে যাওয়া হয়নি। গত রবিবার রাতেও তাকে ব্যাপক মারধরের এক পর্যায়ে সে মারা যায়। সকালে পাষণ্ড নুরুল হুদা পারভেজ বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে গতকাল সকালে তার সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে দেখেন সালমা আকতার মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসময় পরিবারের সদস্যরা তাকে তাড়াহুড়ো করে দাফনের ব্যবস্থা করতে চাইলে বিষয়টি এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে চন্দনাইশ থানা পুলিশকে অবহিত করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে।

নিহতের বড় ঝা জুলি আকতার জানান, তার দেবর নুরুল হুদা পারভেজ খুব খারাপ প্রকৃতির ছেলে। সে সব সময় নেশাগ্রস্ত থাকতো। নেশার টাকার জন্য এলাকায় চুরিচামারি করতো। বিগত ৫/৬ বছর পূর্বে সে বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েটিকে বিয়ে করে ঘরে এনেছিল। কিন্ত তার বাড়ি ও পিতামাতার কোন ঠিকানা পাওয়া যায়নি। সে শুধু তার নাম সালমা আকতার লিখে দেখিয়েছিল। সে ৪ কন্যা সন্তানের জননী। তার ২য় ও ৩য় কন্যা সন্তানকে নুরুল হুদা বিক্রি করে দিয়েছিল। তার বড় কন্যা নুর জাহান () বর্তমানে তার দাদীর সাথে থাকে। কিন্তু ১২ দিনের শিশু কন্যাকে নিয়ে এখন কি করবে বুঝতে পারছেন না।

চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইলিয়াছ খান জানান, দোহাজারী জামিজুরীতে স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ গোপনে দাফনের সংবাদ ৯৯৯ এ পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়। অভিযুক্ত নুরুল হুদা পারভেজ ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিল। গতকাল সন্ধ্যায় তাকে স্থানীয় জনতা দোহাজারী পৌরসদরে দেখতে পেয়ে তাকে ধরে ফেলে। পরে খবর দিলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপাইপলাইনে ঢাকায় জ্বালানি তেল সরবরাহ দেড় মাস ধরে বন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধএলপি গ্যাসের ওপর প্রযোজ্য ভ্যাট কমাল সরকার