চন্দনাইশে দুই সন্তানের জননীর লাশ উদ্ধার

যৌতুকের জন্য পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ

চন্দনাইশ প্রতিনিধি | বুধবার , ৪ মার্চ, ২০২৬ at ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ

চন্দনাইশে যৌতুকের জন্য দুই সন্তানের জননীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ভিকটিমের নাম আয়েশা সিদ্দিকা মুক্তা (২২)। গত শনিবার উপজেলার হাজিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুক্তার দুই বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান ও তিন মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পরিবার গত সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলার বাগিচাহাটস্থ একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুক্তাকে পরিকল্পিত হত্যার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিগত ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর চন্দনাইশের মধ্যম হাশিমপুর মোজাহেরপাড়ার কৃষক মনির আহমদের মেয়ে আয়শা সিদ্দিকা মুক্তার (২২) সাথে সামাজিকভাবে একই উপজেলার পূর্ব জোয়ারা হাশিমপাড়া গ্রামের মো. হাছান আলীর ছেলে আরিফুল ইসলাম জিফাতের (২৯) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে মুক্তার স্বামী জিফাত ও তার পরিবারের সদস্যরা যৌতুকের জন্য মুক্তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। যৌতুকের জন্য ইতিপূর্বে মুক্তাকে একবার ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়। পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গের মধ্যস্থতায় ভবিষ্যতে আর যৌতুক দাবি করবে না মর্মে মৌখিকভাবে অঙ্গীকার করে মুক্তাকে ঘরে তুলে নেয়। কিন্তু তার স্বামী জিফাত ও পরিবারের সদস্যদের চরিত্রের কোনো প্রকার পরিবর্তন হয়নি। সম্প্রতি জিফাত ব্যবসার কথা বলে মুক্তাকে আবারও বাপের বাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকা ও ইফতার সামগ্রী এতে দিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। যৌতুক ও ইফতারের জন্য শারীরিক নির্যাতন করার বিষয়টি মুক্তা ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানালে মেয়ের সুখের জন্য কয়েকদিনের মধ্যে তাদের দাবিকৃত যৌতুকের টাকা প্রদানের ব্যবস্তা করার কথাও বলা হয়। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় মোবাইলে জানানো হয় মুক্তা মারা গেছে। বিষয়টি তৎক্ষণাৎ চন্দনাইশ থানায় অবহিত করে পুলিশসহ গিয়ে দেখা যায় মুক্তার লাশ শ্বশুরবাড়ির খাটের উপরে পড়ে আছে। পরবর্তীতে আশেপাশের লোকজনের দেয়া তথ্যে জানতে পারেন ওইদিন ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে তার স্বামী জিফাত ও তার পরিবারের সদস্যরা মুক্তাকে নির্যাতনের পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। কিন্তু উক্ত হত্যাকাণ্ডকে সুকৌশলে আত্মহত্যায় রূপ দেওয়ার জন্য গলায় ওড়না পেঁচিয়ে রুমের টিনের চালের বিমের সাথে পেঁচিয়ে রাখে।

এ ব্যাপারে নিহত মুক্তার পিতা মনির আহমদ বাদি হয়ে মেয়ের স্বামী আরিফুল ইসলাম জিফাতসহ ৪ জনকে আসামি করে চন্দনাইশ থানায় একটি অভিযোগ দেয়। কিন্তু পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা যৌতুকের জন্য আয়েশা সিদ্দিকা মুক্তাকে হত্যাকারী আরিফুল ইসলাম জিফাতসহ এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নিহত মুক্তার পিতা মনির আহমদ, মা সাজু আকতার, জাহেদ কোম্পানি, সাবেক সেনা সদস্য আবছার, মনজুর মোরশেদ, হাসান, ছোটন, আব্বাস, আবদুল আজিজ, আজাদ, মামুন, আমজাদ, বাবু প্রমুখ।

চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস খাঁন সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে সুরহতাল রিপোর্ট প্রস্তুতপূর্বক ময়নাতন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলে ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহাটহাজারীতে তরমুজ কেনা নিয়ে দ্বন্দ্বে দোকানে হামলা, আহত ২
পরবর্তী নিবন্ধআইনের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হবে