চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশনের ৫৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা

| রবিবার , ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশনের ৫৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা গতকাল শনিবার সিএলএফ কমপ্লেঙের হালিমা রোকেয়া মেমোরিয়াল হলে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান পিডিজি লায়ন নাসিরউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা প্রদান ও চট্টগ্রাম লায়ন্স আই ইনস্টিটিউটের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ও অর্জনসমূহ তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক লায়ন ডা. দেবাশীষ দত্ত। তিনি জানান, ২০২৪ ২০২৫ অর্থবছরে হাসপাতালটি মোট ১,২৫,০২০ জন বহির্বিভাগের রোগী, ৩০,৩৪৩ জন আউটরিচ ক্যাম্পের রোগীকে সেবা প্রদান এবং ৮,২২৪টি অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়াও স্মার্টফোনভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি স্ক্রিনিংসহ বিভিন্ন আধুনিক সাবস্পেশালিটি সেবা চালু করা হয়েছে। সভায় বিগত বছরে জেকো ফাউন্ডেশনের সহায়তায় সুবিধাবঞ্চিতদের বিনামূল্যে ছানি অপারেশন এবং লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের ভিশন গ্রান্টে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের কথা উল্লেখ করে দাতাদের ধন্যবাদ জানানো হয়। এছাড়া, ভবিষ্যতে টেলিমেডিসিন, মোবাইল আই ট্রিটমেন্ট অ্যাম্বুলেন্স ও স্যাটেলাইট ক্লিনিক স্থাপনের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।

জুলাই ২০২৪ হতে জুন, ২০২৫ অর্থ বছরের অডিট রিপোর্ট উপস্থাপন করেন ফাউন্ডেশনের ট্রেজারার লায়ন এস.জোহা চৌধুরী। লায়ন্স চক্ষু হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম লায়ন্স আই ইনস্টিটিউট এন্ড হসপিটালকে চট্টগ্রাম তথা দেশের একটি আধুনিক রেফারেল প্রতিষ্ঠান গঠনের লক্ষ্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান পিডিজি লায়ন নাসিরউদ্দিন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশন দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা প্রতিরোধ এবং আর্থসামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। রোগীবান্ধব পরিবেশ, দক্ষ চিকিৎসক এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতাল আজ সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আমরা প্রশাসনিক কার্যক্রমে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা, অনলাইন রিপোর্টিং ও আধুনিক মনিটরিং আরও শক্তিশালী করার দিকে অগ্রসর হচ্ছি। এই সাফল্যের পেছনে আমাদের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক নিষ্ঠা ও পরিশ্রম রয়েছে তাদের সবাইকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আগামী দিনে সেবার পরিধি আরও সমপ্রসারণ, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো এবং আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। পাশাপাশি চট্টগ্রাম লায়ন্স আই ইনস্টিটিউটকে দেশের একটি আধুনিক রেফারেল সেন্টার হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

সভায় প্রাক্তন জেলা গভর্নরবৃন্দের মধ্যে ফাউন্ডেশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান লায়ন নজমুল হক চৌধুরী, প্রাক্তন ভাইসচেয়ারম্যান লায়ন রফিক আহমেদ, লায়ন রূপম কিশোর বড়ুয়া, লায়ন ডা. শ্রীপ্রকাশ বিশ্বাস, লায়ন মো. মোস্তাক হোসাইন, জেলা গভর্নর লায়ন মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ অপু, ১ম ভাইসজেলা গভর্নর লায়ন কামরুজ্জামান লিটন, ২য় ভাইস জেলা গভর্নর লায়ন মো. আবু বক্কর সিদ্দিকী, লায়ন এস.এম. আশরাফুল আলম আরজু, ডা.মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, ডা. শাবানা সুলতানা, ইনসাফি হান্না উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া লায়ন মনিরুল কবীর, লায়ন ইঞ্জিঃ মুজিবুর রহমান, লায়ন এস.এম. আবু জাকের, লায়ন শোভিত বিকাশ বড়ুয়া, লায়ন মঞ্জুরুল আহসান চৌধুরী, লায়ন ওরায়দুর রহমান, সাংবাদিক জাহেদুল করিম কচি, লায়ন জিয়াউল হক সোহেল,লায়ন তারেক বক্তব্য প্রদান করেন। সভায় বক্তারা ফাউন্ডেশন ও এর প্রকল্পগুলোর চলমান কার্যক্রম নিয়ে গঠনমূলক মতামত ও প্রস্তাব উপস্থাপন করেন এবং রোগীদের সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে লায়ন্স চক্ষু হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম লায়ন্স আই ইনস্টিটিউটকে দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার ওপর জোর দেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমায়ের সাথে লন্ড্রীতে কাজ করেও স্কুলে পড়ছে শিশু জীবন দাস
পরবর্তী নিবন্ধপোর্ট সিটি ভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের বসন্ত বরণ