বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আয়োজিত চট্টগ্রাম রিজিয়নাল টি–টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের গতকালের চারটি ম্যাচে জয় পেয়েছে এশিয়ান চট্টগ্রাম, ইস্পাহানী ফেনী, ক্লিপটন কক্সবাজার এবং কন্টিনেন্টাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সাগরিকাস্থ বীরশেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দিনের প্রথম ম্যাচে ক্লিপটন কক্সবাজার ৪৬ রানে ইস্পাহানী লক্ষীপুর জেলা দলকে পরাজিত করে। একই মাঠে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে কন্টিনেন্টাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিএলএস মেথডে ১৪ রানে এবি ব্যাংক নোয়াখালীকে পরাজিত করে। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দিনের প্রথম ম্যাচে ইস্পাহানী ফেনী ৫ উইকেটে ফর্টিস রাঙ্গামাটি জেলা দলকে পরাজিত করে। একই মাঠে দিনের অপর ম্যাচে এশিয়ান চট্টগ্রাম ডিএলএস মেথডে ৪৬ রানে কন্টিনেন্টাল খাগড়াছড়ি দলকে পরাজিত করে। গতকালের ম্যাচে কক্সবাজারের মোদাচ্ছের ইসলাম ১২ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। ফেনীর সাজ্জাদ হোসাইনও ১২ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। এছাড়া চট্টগ্রামের মোহাম্মদ রুবেল করেছেন হ্যাটট্রিক।
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করতে নামে কক্সবাজার। দলের প্রথম সারির তিন ব্যাটারের কল্যাণে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৩ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে হানিফ ৩৮, শাহজাহান ২৪, হিরু ২২, তারিক অপরাজিত ২৬, সাঈদ ১৭ এবং ফয়সাল ৮ করেন ১৫ রান। লক্ষীপুরের পক্ষে ২টি উইকেট নিয়েছে ইমতিয়াজ আহমেদ। জবাবে ব্যাট করতে নামা লক্ষীপুর জেলা শুরুতেই সাঈদ সরকারের বোলিং তোপের মুখে পড়ে। এরপর বল হাতে জাদু দেখান মোদাচ্ছের। মূলত এ দুজনের ঘূর্ণিতে ১১৭ রানে অল আউট হয় লক্ষীপুর জেলা দল। দলের পক্ষে ৭ এবং ৮ নাম্বারে নামা তানজিদ এবং শরীফ করেন যথাক্রমে ৩৬ এবং ৩৪ রান। এছাড়া দুই অংকের ঘরে যেতে পেরেছেন কেবল আর দুজন। তারা হলেন ১৮ রান করা দিন ইসলাম এবং ১০ রান করা আশিক। কক্সবাজারের পক্ষে মোদাচ্ছেরুল ১২ রানে নেন ৬ উইকেট। ৩টি উইকেট নিয়েছেন সাঈদ সরকার। ম্যাচ সেরা হয়েছেন মোদাচ্ছেরুল ইসলাম। তার হাতে পুরষ্কার তুলে দেন ইস্পাহানী টি ট্রেড জেনারেল ম্যানেজার তাসবির হাকিম এবং ক্লিপটন গ্রুপের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম টুটুল।
একই মাঠে অনুষ্ঠিত দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে নোয়াখালী নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ৯০ রান করতে সক্ষম হয়। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩২ রান করে অপরাজিত থাকে শাহাদাত। এছাড়া দুই অংকের ঘরে যেতে পেরেছে ১২ রান করা আলভি এবং ১৩ রান করা মাকসুদুর। বাহ্মনবাড়িয়ার পক্ষে ১২ রানে ৪টি উইকেট য়িছেন শামীম মিয়া। ১৬ রানে ৩টি উইকেট য়িেছেন মেহেদী হাসান। জবাবে ব্যাট করতে নামা বাহ্মনবাড়িয়া ১২ ওভারে ৫ উইকেটে ৬৯ রান করলে বৃষ্টি শুরু হয়। পরে আর খেলা শুরু করা না গেলে ডিএলএস মেথডে ১৪ রানে জয় লাভ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। দলেল পক্ষে আশফাক ১৮, সুমন ১৪ এবং শামীম করেন ১১ রান। নোয়াখালীর পক্ষে একটি করে উইকেট নিয়েছেন ইয়াছিন, মোস্তাকিম, মুশফিকুর, শাহাদাত এবং মাকসুদুর। বিজয়ী দলের শামীম মিয়া ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন। তার হাতে পুরষ্কার তুলে দেন কন্টিনেন্টাল গ্রুপের আবিদ ইকবাল চৌধুরী এবং এবি ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হাসনাইন মাসুদ।
চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অণুষ্ঠিত দিনের প্রথম ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে। ওপেনার ইলিয়াছ লেথাম একপ্রান্দ আগলে রাখলেও অপরপ্রান্তে কেবলই আসা যাওয়া করছিলেন বাকিরা। ওপেনার ইরিয়াছ ৪৪ রানের লড়া্কু ইনিংস খেললেও পরের ব্যাটারদের কেউই দুই অংকের ঘরে যেতে পারেনি। ফলে ১৮.৪ ওভারে ৭১ রানে অল আইট হয় রাঙ্গামাটি। দলের পাঁচ ব্যাটার ফিরেছেন রানের খাতা খুলার আগেই। ফেনীর পক্ষে সাজ্জাদ হোসাইন ১২ রানে নিয়েছেণ ৬ উইকেট। ২টি উইকেট নিয়েছেন শাহরিয়ার আহমেদ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইস্পাহানী ফেনী ১৪.১ ওভারে ৫ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে। দলের পক্ষে ওপেনার জিল্লুর ৩৪ বলে করেন ৩১ রান। সাজ্জাদ ২০ বলে করেন ২৪ রান। রাঙ্গামাটির পক্ষে ২টি উইকেট য়িেছেন কাজি কামরুল। বিজয়ী দলেল সাজ্জাদ ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন। তার হাতে পুরষ্কার তুলে দেন ইস্পাহানী গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার টি–ট্রেড শাহ মাঈনুদ্দিন হাসান এবং ফর্টিস গ্রুপের প্রতিনিধি আবদুল আহাদ।
একই মাঠে দিনের শেষ ম্যাচটি ছিল স্বাগতিক চট্টগ্রামের। এই ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল করেনি খাগড়াছড়ি। ৩৯ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর পঞ্চম উইকেটে মিনহাজ সৌরভ এবং নাঈম প্রতিরোধ গড়ে ৪২ রান যোগ করেণ। এজুটি ভাঙ্গলে আর বড় হয়নি খাগড়াছড়ির ইনিংস। ১২১ রানেই থামে তারা। শেষ দিকে হ্যাটট্রিক করে চট্টগ্রামের স্পিনার রুবেল। খাগড়াছড়ির পক্ষে আসাদুর ১৭, মিনহাজ ২৯, নাঈম ৩২ এবং ইশরাত করেন ১০ রান। চট্টগ্রামের পক্ষে মোহাম্মদ রুবেল হ্যাটট্রিক সহ ৪ উইকেট নেন ২০ রানে। ২টি উইকেট নেন শোয়েব। জবাবে ভ্যাট করতে নামা চট্টগ্রামের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গে ২১ রানে। সাদিকুর ফিরেন ৮ রান করে। তবে কপিলের ব্যাটে যেন তোপ দাগাচ্ছিল। ইরফান শুক্কুরের সাথে ৮০ রান যোগ করেন দ্রুততার সাথে। ১৬ বলে ২৭ রান করে ফিরেন ইরফান। তবে কপিল তুলে নেন নিজের হাফ সেঞ্চুরি। চট্টগ্রামের রান যখন ১২.১ ওভারে ১১৪ তখন শুরু হয় বৃষ্টি। আর খেলা শুরু হতে না পারলে ডিএলএস মেথডে ৪৬ রানে জয় পায় চট্টগ্রাম । ৪৩ বলে ৬১ রান করে অপরাজিত থাকেন কপিল উদ্দিন। তবে ম্যাচ সেরা হয়েছেন হ্যাটট্রিক করা রুবেল । তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন এশিয়ান গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোঃ বেলায়েত।