চট্টগ্রাম–৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেছেন, স্বাস্থ্য সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছে সরকার। জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ই–হেলথ কার্ড চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন। দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে শীঘ্রই দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। যার মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী ও ২০ শতাংশ পুরুষ স্বাস্থ্যকর্মী। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা, বিনামূল্যে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং প্রতিটি জেলায় আধুনিক সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট প্রতিষ্ঠা। এই সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
গতকাল বুধবার বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন সংকট ও সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সমাধানকল্পে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের চিকিৎসা সেবার প্রধান ভরসাস্থল এই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। আমাদের লক্ষ্য এই হাসপাতালকে দেশের অন্যতম আদর্শ হাসপাতালে রূপান্তর করা। এটিকে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা করতে যা যা প্রয়োজন, তা দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। নানাবিধ সমস্যার কারণে হাসপাতালের রোগীরা উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদে জোরালোভাবে উপস্থাপন করব এবং দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নিব। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উন্নয়নে আমি আমার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্ট করবো। সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়া উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন সহ কর্মকর্তাবৃন্দ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যার কথা সংসদ সদস্যের নিকট তুলে ধরেন। এ সময় তারা বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ২২০০ শয্যা বিশিষ্ট হলেও এখানে ৩৫০০–৪০০০ রোগী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। রোগীর তুলনায় চিকিৎসক, জনবল, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম অপ্রতুল। আসন সংখ্যার তুলনায় দ্বিগুণ–তিনগুণ রোগী ভর্তির কারণে রোগীদের হাসপাতালের ফ্লোর, বারান্দা, বাথরুম সহ বিভিন্ন ফাঁকা জায়গায় চিকিৎসা গ্রহণ করতে হচ্ছে যা রোগীর স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। সুতরাং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে হাসপাতালের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করা প্রয়োজন। এনেসথেসিয়া মেশিন, আইসিউ ভেন্টিলিটর, আল্ট্রসনোগ্রাফি, ইসিজি মেশিনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকায় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতাল সীমানায় ভবঘুরে মানুষের উৎপাত ও হকার সমস্যা হাসপাতালের পরিবেশ বিনষ্ট করছে। অবৈধ দোকানপাট ও হকারদের কারণে রোগীদের বহনকারী এম্বুলেন্স ঠিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাবে শিক্ষা পাঠদান ও কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। হাসপাতালের যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংরক্ষণে একটি মাল্টিপারপাস ভবন (স্টোর) নির্মাণ অত্যাবশকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৮০ শয্যা বিশিষ্ট ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি কেয়ারের (ওসেক) কাযক্রম স্বাভাবিক রাখতে চাহিদামতো জনবল নিয়োগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
এ সময় সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উত্থাপিত সমস্যাগুলো মনোযোগ সহকারে শুনেন এবং তা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবদুর রব, হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইব্রাহীম চৌধুরী, উপ–পরিচালক ডা. ইলিয়াছ চৌধুরী, ডা. ফয়েজুর রহমান, ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব ডা. এস এম সরোয়ার আলম, কেন্দ্রীয় সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. নুরুল করিম, আনোয়ার হোসেন লিপু, সালাহউদ্দিন কায়সার লাভু, সমাজকর্মী কায়ছার আলী, ড্যাব কেন্দ্রীয় ডক্টরস ওয়েলফেয়ার সহ সম্পাদক ডা. সাদ্দাম হোসেন, ডা. রিয়াসাদ শাহাবুদ্দিন, ডা. সাদ্দাম হোসেন, ডা. মাহমুদুল হাসান, ডা. মেহেদী হাসান ইমাম, ডা. সালাউদ্দিন স্বপন, ডা. তরিকুল ইসলাম, ডা. আরমান, চমেক ছাত্রদলের সভাপতি ডা. হাসিবুল হাসিব প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।











