চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ৩১ জুলাই কিং অব চিটাগাংয়ে ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর পরপর তিন দফা তারিখ নির্ধারণ করার পরও সম্মেলন হয়নি। সম্মেলন সামনে রেখে গঠন করা হয়েছে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি। কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরীকে। সদস্য সচিব হলেন সাবেক সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। বর্তমান কমিটির সকল কর্মকর্তা ও সদস্যদের নিয়ে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়।
গতকাল সকালে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট হলে অনুষ্ঠিত মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। চট্টগ্রাম–১০ (ডবলমুরিং, পাহাড়তলী ও হালিশহর) সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন হবে আগামী ৩০ জুলাই। এর একদিন পর ৩১ জুলাই হবে নগর সম্মেলন।
কার্যকরী কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদুল আজহার পর মহানগরের আওতাধীন কয়েকটি ইউনিট এবং যে সকল ওয়ার্ড ও থানা কমিটির সম্মেলন এখনো হয়নি তা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগেই সম্পন্ন করা হবে। ইতোমধ্যে স্থানীয় নেতৃত্বের সাথে আলোচনা করে অসমাপ্ত কয়েকটি ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা কমিটির সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া বেশ কয়েকটি থানার সাংগঠনিক কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় বলা হয়, আগামী ৫ জুলাই মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভা হবে। সভায় সম্মেলন সফল করতে বেশ কয়েকটি উপ–কমিটি গঠন করা হবে এবং সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে যাবতীয় কার্যক্রম চূড়ান্ত ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ আছে এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত করে আসছে। তৃণমূল স্তরের নেতাকর্মীদের সহায়তায় সাংগঠনিক কাঠামোগুলো গঠনের কার্যক্রম অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে এবং তা চলমান রয়েছে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে, গঠনতান্ত্রিক নীতিমালা ও শৃক্সখলা বজায় রেখে ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা কমিটিগুলো তৃণমূল স্তরের নেতাকর্মীদের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী গঠন করা। এ পর্যন্ত যে কমিটিগুলো গঠন হয়েছে তা গঠনতান্ত্রিক নীতি মোতাবেক এবং সর্বসম্মতভাবেই হয়েছে। তিনি বলেন, ত্রিবার্ষিক সম্মেলন নির্ধারিত সময়ে যাতে সুসম্পন্ন হতে পারে সে জন্য সকল স্তরের নেতাকর্মীদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। তাদেরকে সংগঠন থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের থানা, ওয়ার্ড ও যে কয়েকটি ইউনিটে সম্মেলন সমাপ্ত হয়নি সেগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যকরী কমিটি ওই সকল সাংগঠনিক ওয়ার্ডে কমিটি গঠনে সরাসরি উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এ ব্যাপারে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে তা যদি পালন করা না হয় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা আগেও চেয়েছিলাম এবং এখনো চাই, তৃণমূল স্তরের কমিটিগুলো সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত হোক। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় নেতৃত্বের অসহযোগিতায় সম্মেলন বিলম্বিত হয়েছে। যে সমস্ত কমিটির সভাপতি–সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন তারা যেন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মূল্যায়ন করে কমিটি গঠন করেন এবং তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী ও গতিশীল করেন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সামনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে তৃণমূল থেকে প্রতিটি ওয়ার্ড, থানায় কোনো প্রকার ভেদাভেদ রাখা যাবে না এবং দলের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী যাকেই প্রার্থী নির্বাচন করা হবে তাকে অবশ্যই বিজয়ী করতে হবে।
তিনি জানান, সম্প্রতি ২ নং জালালাবাদ ওয়ার্ডের সম্মেলন হয়। এখানে সভাপতির দায়িত্ব শাহজাদা কাজী এম এ মালেককে দেওয়া হয়। এছাড়া আগামী ১ জুলাই মরহুম জননেতা জহুর আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নঈম উদ্দীন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সুনীল কুমার সরকার, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, এম জহিরুল আলম দোভাষ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আবদুচ সালাম, নোমান আল মাহমুদ এমপি, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, শফিকুল ইসলাম ফারুক, হাসান মাহমুদ শমসের, অ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, মসিউর রহমান চৌধুরী, আহমেদুর রহমান সিদ্দিকী, হাজী মো. হোসেন, দিদারুল আলম চৌধুরী, আবু তাহের, ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, মো. শহিদুল আলম, নির্বাহী সদস্য কামরুল হাসান বুলু, পেয়ার মোহাম্মদ, আহমেদ ইলিয়াছ, অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দীন আহমেদ, মহব্বত আলী খান, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, আব্দুল লতিফ টিপু, ড. নিছার উদ্দীন মঞ্জু, মো. জাবেদ, হাজী বেলাল আহমদ প্রমুখ।












