চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি সরবরাহ ও বাংকারিং স্বাভাবিক

বহির্নোঙরে ১৪ জ্বালানিবাহী জাহাজ

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ৯ মার্চ, ২০২৬ at ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ

বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি সরবরাহ এবং বাংকারিং কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন বজায় রাখতে বন্দরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

গতকাল রোববার বন্দরের কনফারেন্স কক্ষে চবকের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

সভায় জানানো হয়, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে আগত জাহাজের মাধ্যমে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরে আগত জাহাজগুলোর বাংকারিং ও সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সরবরাহের প্রধান উৎস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাব এখানে তুলনামূলকভাবে কম।

সভায় উপস্থাপিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানিবাহী জাহাজের নিয়মিত আগমন অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে কাতার, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আগত পাঁচটি এলএনজি এবং দুটি এলপিজি বাহী জাহাজসহ মোট ১৪টি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে অথবা বন্দরে আগমনের পথে রয়েছে। পাশাপাশি সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলবাহী জাহাজও নিয়মিত আসছে।

সভায় জানানো হয়, বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পণ্য নিয়ে এসব জাহাজের ধারাবাহিক আগমন এবং দ্রুত বার্থিং ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ায় বর্তমানে বন্দরে কোনো ধরনের জট নেই। জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থাও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

সভায় বন্দরের সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন, নৌবাণিজ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, ওমেরা ফুয়েল লিমিটেড, পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ ওশন গোয়িং শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, কোস্টাল শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদেক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অংশগ্রহণকারীরা জানান, দেশে বর্তমানে জ্বালানি মজুদ সন্তোষজনক এবং চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো সক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে নৌবাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের চাহিদা সমন্বিতভাবে নিরূপণ করা হবে এবং জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে চট্টগ্রাম বন্দরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম ও লজিস্টিক সাপোর্ট আগের মতোই নিরবচ্ছিন্ন রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখতে তারা সর্বদা সজাগ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধযুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি রেশনিং চলবে : মন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে গ্রেপ্তার ইমিসহ তিনজন কারাগারে