নানা সীমাবদ্ধতার পরও চলতি অর্থবছরের জুলাই–মার্চ সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং এবং জাহাজ আসার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। বন্দর কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ তথ্য বলছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের এই নয় মাসে মোট কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১০ কোটি ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৮ টন; যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। এসময়ে বন্দরে জাহাজ এসেছে ৩২৩০টি, যা ২০২৪–২৫ অর্থবছরের একইসময়ের ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। বন্দরে এসময়ে জাহাজের গড় অবস্থানকাল কমার পাশাপাশি বর্হিনোঙ্গরে জাহাজের অপেক্ষার সময় শূন্যতে নেমে এসেছে বলেও দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। খবর বিডিনিউজের।
গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফাত হামিম বলেন, ‘বন্দরের দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সেবার অটোমেশনসহ নানা উদ্যোগের ফলে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। অর্থবছরের বাকি সময়েও বন্দর কর্তৃপক্ষ এ অগ্রগতি চলমান রাখতে চায়।’
ঈদের ছুটির মধ্যেও নিরবচ্ছিন্ন সেবার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ চেইন সচল রাখতে সফল হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে ধারাবাহিক উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত পণ্য পরিবহনে ২১ দশমিক ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। অর্থনীতি স্থিতিশীল হওয়া এবং জ্বালানি ও কাঁচামাল আমদানি বৃদ্ধির ফলে এই সাফল্য এসেছে। কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়েও ২০২৫ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে যথাক্রমে ২০ দশমিক ১০ শতাংশ ও ১০ দশমিক ২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বন্দর সচিব বলেন, ‘টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং অটোমেশনের ফলে কন্টেনার জট কমেছে এবং দ্রুত পণ্য খালাস সম্ভব হয়েছে। বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থানের সময় চার দিন থেকে কমে আড়াই দিনে নেমেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সর্বোচ্চ ৩৯১টি জাহাজ এসেছে। আগের বছরের একই মাসের চেয়ে যা ১৬ দশমিক ০২ শতাংশ বেশি।’
চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, ‘জিরো ওয়েটিং টাইম অর্জন, জাহাজের গড় টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কন্টেনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বার্থ অকুপেন্সি দক্ষভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।’














