চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেনার জাহাজের জট গতকাল পুরোপুরি কেটে গেছে। বহির্নোঙরে বর্তমানে কোনো কন্টেনার জাহাজ অপেক্ষমাণ নেই। বেশ কিছুদিন ধরে চলা জাহাজজটের পরিস্থিতি থেকে এখন মুক্তি পেয়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাত পর্যন্ত বন্দরের জেটিগুলোতে বিদেশ থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে আসা ১৬টি জাহাজ অবস্থান করছিল। এর মধ্যে কন্টেনার জাহাজ রয়েছে ১১টি। গতকাল ৫টি জাহাজ বন্দরের জেটি ছেড়ে গেছে এবং নতুন করে ৭টি জাহাজ জেটিতে ভিড়েছে।
বহির্নোঙরে গতকাল জেটিতে বার্থিং নেয়ার মতো কোনো কন্টেনার জাহাজ ছিল না। অপেক্ষমাণ জাহাজ শূন্যতে নামিয়ে আনার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর মুক্তি পেয়েছে জাহাজজট থেকে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসাবান্ধব অ্যাকশন প্ল্যানের কারণে এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, সময়মতো জাহাজের আগমন ও প্রস্থান নিশ্চিত হওয়ায় কন্টেনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে গতিশীলতা তৈরি হবে, আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
চট্টগ্রাম বন্দরে গত বেশ কয়েকমাস ধরে জাহাজ ও কন্টেনারজট ছিল। জেটিতে বার্থিংয়ের জন্য বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজের সারি বাড়ছিল। এতে আমদানিকারকদের হাতে সময়মতো পণ্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে উঠে। বিশেষ করে ব্যাক টু ব্যাক এলসির আওতায় আনা গার্মেন্টস সেক্টরের কাঁচামাল নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছিল।
জাহাজজটের কারণে রপ্তানিকারকেরাও ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। সময়মতো পণ্য জাহাজীকরণ ব্যাহত হওয়ায় ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট থেকে মাদার ভ্যাসেল ধরতে হিমশিম খেতে হয়।
বন্দরের বহির্নোঙরের জট নিয়ে দেশের ব্যবসায়ী শিল্পপতিরা উদ্বিগ্ন ছিলেন। জাহাজজটের পাশাপাশি ছিল কন্টেনারজটও। সবকিছু মিলে বিদেশে চট্টগ্রাম বন্দরের ইমেজ সংকটের শংকাও দেখা দেয়।
বন্দর সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, জাহাজজট, কন্টেনারজট এবং জাহাজের টার্ণএ্যারাউন্ড টাইম কমিয়ে আনার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়। বিশেষ করে জাহাজের আগমন ও প্রস্থান নির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী কঠোরভাবে মেনে চলা, কন্টেনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে গতিশীলতা এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কাস্টমস, শিপিং এজেন্ট এবং বন্দর কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ফলেই গতকাল চট্টগ্রাম বন্দর পুরোপুরি জাহাজজট মুক্ত হয়েছে। বন্দরের ইয়ার্ডে এখনো কন্টেনারের সংখ্যা কিছুটা বেশি থাকলেও ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে তাতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। জাহাজজটের অবসানই এই মুহূর্তে খুবই জরুরি ছিল, যেটা গতকাল অর্জিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।