ঈদের টানা ছুটিতেও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পুরো অপারেশনাল সক্ষমতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। পূর্বপ্রস্তুতি, সমন্বিত সিদ্ধান্ত এবং কার্যকরভাবে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের ফলে টানা ছুটি চলাকালেও দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে নিরবচ্ছিন্নভাবে পণ্য খালাস ও জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগেভাগেই একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়, যা জেটি সাইড ও বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করে। জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেলবাহী জাহাজের বার্থিং, নেভিগেশনাল সাপোর্ট এবং দ্রুত খালাস নিশ্চিত করা হয়। একইসঙ্গে বন্দর অভ্যন্তরে জাহাজের আগমন, খালাস ও প্রস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের অপারেশনাল ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ঈদের ছুটিতে কর্মকর্তা–কর্মচারীদের রোস্টারভিত্তিক দায়িত্ব পালন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক মনিটরিং এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত সহযোগিতায় বন্দর ছিল কর্মচঞ্চল। সড়কপথে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম ও ঢাকার মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য বিশেষ স্টিকার ব্যবস্থাও চালু করা হয়, যাতে সীমিত চলাচলের মধ্যেও আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।
গত ১৭ থেকে ২৩ মার্চ সাত দিনে বন্দরে ৫৪ হাজার ৮৯৮ টিইইউএস কন্টেনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি পণ্যবোঝাই কন্টেনার ২৮ হাজার ৯৬১ এবং রপ্তানি পণ্যবোঝাই কন্টেনার ২৫ হাজার ৯৩৭ টিইইউএস। ১৮ মার্চ একদিনেই সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৬১ টিইইউএস কন্টেনার ও ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৪ টন কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড গড়ে। ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত বন্দরে মোট ২৫ লাখ ৮ হাজার ৬১৪ টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি পণ্য ২৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৬ টন এবং রপ্তানি ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮২৮ টন। এই সময়ে মোট ৬৪টি জাহাজ বন্দরে বার্থিং ও হ্যান্ডলিং করা হয়। ঈদের দিনে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও পরবর্তী দিনগুলোতে দ্রুত কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। ২৩ মার্চ আবার পূর্ণ গতিতে ফিরে এসে ১২টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়।
উল্লেখ্য, সামপ্রতিক কর্মবিরতি ও জাহাজের চাপ বাড়ার কারণে যে ওয়েটিং টাইম ২–৩ দিনে পৌঁছেছিল, তা দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। বহির্নোঙরে জাহাজের ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জন বন্দরের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২৪ মার্চের তথ্যানুযায়ী, বন্দরের ৫৯ হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতার বিপরীতে কন্টেনার ছিল ৪৩ হাজার ২০০ টিইইউএস। এর মধ্যে পূর্ণ কন্টেনার ৩৬ হাজার ২৫৩, ডিপো কন্টেনার ২ হাজার ৬৫৪ এবং খালি কন্টেনার ১ হাজার ৬৫২ টিইইউএস। কমলাপুরগামী ৫১২ টিইইউএস কন্টেনার বন্দরে অবস্থান করছে।
সব মিলিয়ে ঈদের ছুটিতেও চট্টগ্রাম বন্দরের ধারাবাহিক এই পারফরম্যান্স দেশের অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।











