চট্টগ্রাম বন্দরে আবার অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক

হাসান আকবর | শনিবার , ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৩:২৯ অপরাহ্ণ

দুদিন স্থগিত থাকার পর কাল রোববার থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। আজ শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সংগ্রাম পরিষদের দুই সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকন।

এবারের কর্মসূচিতে বন্দরের বহিনোর্ঙরেও কাজ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সংগ্রাম পরিষদ। কর্মসূচি কার্যকর হলে পুরো বন্দর অচল হয়ে পড়বে।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ডিপিওয়ার্ল্ডের হাতে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে গত শনিবার থেকে আট ঘণ্টা করে তিনদিন এবং মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে আসছিল সংগঠনটি। এতে বন্দরের কনটেইনার পরিবহনের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে। তবে বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর বিকেলে লাগাতার কর্মবিরতি দুদিনের জন্য স্থগিত করেন সংগঠনটির নেতারা।

আন্দোলন স্থগিত করার পরপরই আন্দোলনরত ১৫ জন কর্মচারীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন জানায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানাতে অনুরোধ করা হয়। এ খবর জানতে পেরে আন্দোলনকারীরা ক্ষুদ্ধ হন।

সংবাদ সম্মেলনে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, বৃহস্পতিবার উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে পূর্ণাঙ্গ আশ্বাস না পেলেও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি ও রোজার পণ্য খালাসের কথা বিবেচনা করে আমরা লাগাতার কর্মবিরতি কর্মসূচি স্থগিত করেছিলাম। তবে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আন্দোলনকারীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের জন্য বন্দর চিঠি দেয়। এই পদক্ষেপ নিয়ে বন্দর চেয়ারম্যান ( রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান) পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে আবার লাগাতার কর্মসূচিতে যাওয়া ছাড়া আমাদের কোনো উপায় ছিল না।

সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন চার দফা দাবি তুলে ধরেন। এক. এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ না দেয়ার ঘোষণা দিতে হবে সরকারকে। দুই. বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা তিন, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল, চার, তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া।

সংবা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগ্রাম পরিষদের নেতা মোহাম্মদ হারুন, তসলিম হোসেন, আবুল কাসেম, ইয়াসিন রেজা রাজু, জাহিদ হোসেন, হারুন, ইমাম হোসেন খোকেন, শরীফ হোসেন ভুট্টো।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সমুদ্রপথে আমদানি–রপ্তানি পণ্যের ৭৮ শতাংশ পরিবহন হয়। তবে কনটেইনার পরিবহনের কার্যত একমাত্র বন্দর চট্টগ্রাম। এই বন্দর দিয়ে কনটেইনারের ৯৯ শতাংশ পরিবহন হয়। বন্দর বন্ধ হলে কনটেইনারে রপ্তানি প্রায় পুরো বন্ধ হয়ে যায়। কনটেইনারে আমদানি করা শিল্পের কাঁচামাল খালাসও বন্ধ হয়ে পড়ে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধলোহাগাড়ায় ধারালো অস্ত্রসহ ১১ মামলার আসামি গ্রেপ্তার