চট্টগ্রামের মাজার থেকে ৬৮ ডেকচি গায়েব, চসিক প্রশাসক দায়ী করলেন আওয়ামী লীগকে

আজাদী অনলাইন প্রতিবেদন | রবিবার , ৮ নভেম্বর, ২০২৬ at ৫:৫৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের হজরত খাজা গরীব উল্লাহ শাহ (রহ.) মাজারের ৬৮টি ডেকচি চুরির অভিযোগ নিয়ে কয়েকদিন ধরে আলোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে এ ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শাহাদাত হোসেন ও তার অনুসারীদের দায়ী করা হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার গরীব উল্লাহ শাহ মাজার পরিদর্শনে যান চসিক প্রশাসক শাহাদাত হোসেন। ডেকচি গায়েবের ঘটনায় তিনি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দায়ী করে বক্তব্য দেন। নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ফেসবুকে বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

গতকাল এ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন চট্টগ্রাম মহানগর নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ নুরুল আজিম রনি। এ ঘটনায় মেয়র এবং তার অনুসারীদের দায়ী করে তিনি লেখেন, ‌’হযরত খাজা গরীব উল্লাহ শাহ (রহ.) মাজারের শত বছরের ঐতিহ্যের তামার ৪০টি ডেকচি ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে দখলকারী বিএনপি নেতারা। মাজার কমিটিকে ফ্যাসিস্ট ঘোষণা দিয়ে বর্তমান সিটি প্রশাসক মাজার কমিটির নিয়ন্ত্রণ নেন।’

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আজ গরীব উল্লাহ শাহ মাজারে গিয়ে মাজার ও এতিমখানার বিভিন্ন সরঞ্জাম গুণে দেখেন প্রশাসক। মাজারের ডেকচি নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখেন তিনি। বর্তমান কমিটির দায়িত্ব গ্রহণের সময় প্রস্তুত করা হিসাব অনুযায়ী, ছোট-বড় মিলিয়ে ৩২টি ডেকচির মজুত পান তিনি।

এরপর উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বিগত মাজার কমিটির বিরুদ্ধে ব্যাংক হিসাব থেকে দুই দফায় সাড়ে সাত লাখ টাকা, দোকানের অগ্রিম বাবদ এক কোটি ২০ লাখ টাকা, ৬৮টি ডেকচি, কয়েকটি এসি, মাজারের আঙিনার বেশ কয়েকটি বড় গাছ কেটে ফেলা এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম আত্মসাতের অভিযোগ করেন শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্নভাবে মাজারের সম্পদ আত্মসাত করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে এ ধরনের লুটপাটের কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আবু তাহের নামের যে মোতোয়াল্লি মাজারের দায়িত্ব নেন, তিনিও আওয়ামী লীগেরই লোক ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নিযুক্ত মোতোয়াল্লি আবু তাহেরের কার্যক্রম স্থগিত করে চলতি বছরের ১৩ জুন তিন বছরের জন্য পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা এবং ১৩ সদস্যের পরিচালনা কমিটির অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের কার্যালয়। ওই কমিটিতে পদাধিকারবলে চসিকের বর্তমান প্রশাসক শাহাদাত হোসেন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান।

তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নিয়োজিত মোতোয়াল্লি বর্তমান কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি। এ কারণে চট্টগ্রাম ওয়াক্‌ফ এস্টেটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করে বর্তমান কমিটি। দায়িত্ব গ্রহণের সময় মাজারে রক্ষিত বিভিন্ন সরঞ্জামের হিসাব তৈরি করা হয় এবং সেই হিসাবপত্রে ওয়াক্‌ফ এস্টেটের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরও রয়েছে। লুটপাটের তথ্য গোপন করতে আগের কমিটি সব হিসাব বা কাগজপত্র নিজেরাই সরিয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ বর্তমান কমিটির।

সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীকে মাজারের অর্থ সম্পদ আত্মসাতের জন্য দায়ী করেন শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পের নামে আওয়ামী লীগের লোকজন সারা দেশে লুটপাট করেছে। মাজারও এর থেকে বাদ পড়েনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআনোয়ারায় বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির সম্মেলন অনুষ্ঠিত, সভাপতি সজল, সাধারণ সম্পাদক মনসুর
পরবর্তী নিবন্ধইকুইটি প্লাটিনাম সেন্টারের হ্যান্ডওভার অনুষ্ঠান সম্পন্ন