চট্টগ্রাম বন্দরে টানা তিনদিনে পাঁচটি চালানে কন্টেনারভর্তি ৭৮ হাজার ৩২১ লিটার মদ আটকের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বেশকিছু চালানের তালিকা তৈরি করেছে কাস্টমস কর্তারা। এরমধ্যে ১৫০টি চালান কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে লক করা হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৫০ চালানের মধ্যে কিছু এরমধ্যে বিল এন্ট্রি দাখিল করেছে। আর যেগুলো বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেনি, সেগুলোর বিএল লক করা হয়েছে। রিস্ক ম্যানেজম্যান্টের আওতায় অনেকগুলো ক্যাটাগরি বিবেচনা নিয়ে চালানগুলো লক করা হয়। এসব চালান শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে খালাসের অনুমতি দেয়া হবে। তবে আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাস্টমস কর্মকর্তাদের অবস্থা অনেকটা ‘চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে’ এই প্রবাদটির মতো। এখন যেভাবে ক্যাটাগরি করে সন্দেহজনক চালান লক করা হচ্ছে, এটি দুই সপ্তাহ আগে করলে দুটি মদের চালান খালাস হতো না।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপ-কমিশনার (এআইআর শাখা) মো. সাইফুল হক দৈনিক আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের ১৫০টি চালানকে সন্দেহের তালিকায় রেখে আমরা সেগুলো লক করে রেখেছি। সেগুলো মিথ্যা ঘোষণার পণ্য কোনো থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে।
অপরদিকে গত শনিবার ভোরে নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক দুটি মদের কন্টেনার খালাসে চট্টগ্রাম কাস্টমসের ইপিজেড ডিভিশনের একজন রাজস্ব কর্মকর্তার আইডি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে এইআইআর শাখার উপ-কমিশনার সাইফুল হক বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। নাসির উদ্দিন নামের যে রাজস্ব কর্মকর্তার কথা বলা হচ্ছে, তিনি কাজ করেন ইপিজেডে। ওনার আইডি দিয়ে অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে লগইনের সময় আইপি দেখা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর আসকার দীঘির পাড় এলাকার। আমরা যতবার অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে লগিন দিই, ততবার মোবাইলে একটা ওটিপি ভ্যারিফিকেশন কোড আসে। তবে আমরা যতটুকু শুনেছি, রাজস্ব কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনের মোবাইলে নাকি কোনো ওটিপি যায়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত চলছে।
জানতে চাইলে রাজস্ব কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, আমার আইডি দিয়ে কোনো পণ্য খালাস হয়েছে, এটি আমি শুনিনি। আমার বাসা বড়পোল এলাকায়। আমি আসকার দিঘীর পাড় এলাকার দিকে যাইনি।
উল্লেখ্য, আইপি জালিয়াতির মাধ্যমে ঈশ্বরদী ইপিডেজ, নীলফামারি ইপিজেড, কুমিল্লা ইপিজেড এবং মোংলা ইপিজেডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে পাঁচটি কন্টেনারে মোট ৭৮ হাজার ৩২১ লিটার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ নিয়ে আসে আমদানিকারক। এসব মদের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। মিথ্যা ঘোষণায় মদ আমদানির মাধ্যমে আমদানিকারক ৫৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করেছে। আমদানি হওয়া ৫টি কন্টেনারের মধ্যে দুটি খালাসের পর নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক করা হয়। এছাড়া বাকি ৩টি কন্টেনার করা হয় চট্টগ্রাম বন্দরের ভিতর থেকে।












