আগামীকাল সোমবার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে জামায়াতে ইসলামীর পৃথক ৫টি জনসভায় অংশ নেবেন দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান। নির্বাচনী জনসভাগুলোর মধ্যে নগরে একটিসহ চট্টগ্রাম জেলায় অনুষ্ঠিত হবে তিনটি এবং কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হবে দুটি জনসভা। এর মধ্যে সকাল ১১টায় লোহাগাড়া পদুয়া এসিএম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, দুপুর ২টায় সীতাকুণ্ড সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং বিকেল পৌনে ৫টায় চট্টগ্রাম বন্দর স্কুল এন্ড কলেজের মাঠে অনুষ্ঠেয় জনসভায় ভাষণ প্রদান করবেন তিনি। এর আগে সকাল ৯ টায় মহেশখালীর নতুন বাজার প্রাথমিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং সকাল ১০টায় কক্সবাজার পৌরসভার বাহারছড়া গোল চত্তর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। জনসভা শেষ করে রাতে জামায়তের আমির বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ত্যাগ করবেন। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম অঞ্চল জামায়াতের উদ্যোগে এক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের জনসভার বিষয়টি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, দেশ আজ এক গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জনগণের ভোটাধিকার হরণ, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অবিচারের কারণে রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ইসলাম ও দেশপ্রেমিক শক্তি ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ গঠনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুশাসন, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং একটি মানবিক ও কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারির জনসভা নতুন বাংলাদেশ গঠনের আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে। বিভাগীয় পর্যায়ে একটি ‘বিশাল জনসভা’ না করে পাঁচটি আলাদা জনসভা আয়োজনের ব্যাখা দেন মুহাম্মদ শাহজাহান।
তিনি বলেন, এটা ঠিক যে, খুবই কম সময়ের মধ্যে আমাদের ৫টি জনসভা কাভার করতে হবে। আমরা সেন্ট্রালি কোনো প্রোগ্রাম না নিয়ে এতগুলো জনসভা করার কারণ হচ্ছে, আমরা বেশি ভোটারের কাছে পৌঁছতে চাই। সেন্ট্রালি জনসভা করলে আমরা যাদের কাছে পৌঁছতে পারতাম, এখন এই পাঁচটি জনসভার মাধ্যমে দশগুণ মানুষের কাছে আমরা পৌঁছতে পারব বলে মনে করি। বেশি মানুষের কাছে পৌঁছার এই টার্গেটকে সামনে রেখে আমিরের কষ্ট হলেও, আমাদের ম্যানেজমেন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আমরা পাঁচটি জনসভা হাতে নিয়েছি।
তিনি বলেন, প্রতিটি জনসভাই জনসমুদ্রে পরিণত হবে। জনসভাকে কেন্দ্র করে, আমিরের সফরকে কেন্দ্র করে সর্বত্র একটা সাজ সাজ রব আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমাদের সকল নেতাকর্মী, সমর্থক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জনসভা সফল করতে মাঠে কাজ করছে। প্রতিটি জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে ইনশাল্লাহ।
চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় সর্বশেষ জনসভার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীতাকুণ্ড থেকে সড়কপথে এসে তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর আসনগুলোর জন্য নির্ধারিত একটি জনসভায় যোগ দেবেন। আমরা এই জনসভার ভেন্যু নির্ধারণ করেছি বন্দর স্কুল ও কলেজ মাঠকে। আমরা এটা বেছে নিয়েছি, কারণ জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর। যেহেতু এই বন্দর অনেকদিক থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে সর্বশেষ জনসভার ভেন্যুটা এখানে নির্ধারণ করা হয়েছে।
মুহাম্মদ শাহজাহান আরও বলেন, এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের পক্ষে গণজাগরণ সৃষ্টি করার একটি সুযোগ। আমি চট্টগ্রামবাসীসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই দল–মত নির্বিশেষে সবাই এই জনসভা সফল করুন এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে জনমত গড়ে তুলুন।
জামায়াতের উদ্যোগে জনসভার আয়োজন করা হলেও এতে নির্বাচনি ঐক্যের বাকি ১০ দলের শীর্ষ নেতাদের এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, জামায়াতের আমীর ইতোমধ্যে যেসব জনসভায় অংশগ্রহণ করেছেন, আমাদের নির্বাচনি ঐক্যের আরও যে ১০টি দল আছে, উনারাও উনাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করেছেন, জনসভায় উনাদেরও প্রতিনিধিত্ব ছিল। আমরাও আমাদের এই পাঁচটি জনসভায় আরও ১০ দল যারা আমাদের সঙ্গে নির্বাচনি ঐক্যের মাধ্যমে ১১ দলীয় জোট করে সরকার গঠনের মতো একটি সম্ভাবনা জাতির সামনে তৈরি করেছেন, আমাদের পক্ষ থেকে ১০ দলের নেতাদেরকেও দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। আশা করি, এই জনসভা শুধুমাত্র জামায়াতের জনসভা নয়, এটি ১১ দলীয় জোটের জনসভার ফ্লেভার লাভ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর, আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল, চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি খেলাফত মজলিশ অধ্যাপক মাওলানা খুরশিদ আলম, চট্টগ্রাম মহানগরীর বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) মহানগরী সভাপতি আবু মোজাফ্ফর মো. আনাস বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পাটি (এলডিপি) সভাপতি ছৈয়দ গিয়াস উদ্দিন আলম, আমার বাংলাদেশ পাটির চট্টগ্রাম মহানগরীর আহবায়ক এডভোকেট গোলাম ফারুক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পাটির চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট জোবায়ের মাহমুদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি আফসার উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি রিদুয়ান ওয়াহেদ, চট্টগ্রাম উত্তরের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার, এনসিপির মহানগরীর যুগ্ন সমন্বয়ক মীর শোয়াইব ও নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মোহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, চট্টগ্রাম মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান ইলাহী মাওলানা মমতাজুর রহমান।












