চট্টগ্রামে ৩১ মার্চ শুরু হচ্ছে স্বাধীনতা বইমেলা

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ১০ মার্চ, ২০২৬ at ৫:৩০ পূর্বাহ্ণ

অবশেষে এ বছর নগরে বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। ‘অমর একুশে বইমেলা’ নয়, আয়োজন করা হবে ‘স্বাধীনতা বইমেলা’। আগামী ৩১ মার্চ শুরু হয়ে বইমেলা চলবে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রাথমিকভাবে বইমেলার ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম মাঠ। গতকাল সোমবার টাইগারপাস নগর ভবনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা বইমেলা ও মহান স্বাধীনতা দিবস২০২৬ উদযাপন প্রস্তুতি সভায় এ ঘোষণা দেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে দুটি বৃহৎ বইমেলা হয়; ঢাকা ও চট্টগ্রামে। যা অমর একুশে বইমেলা নামে পরিচিত। গত বছর ঢাকার সাথে মিল রেখে চট্টগ্রামেও ১ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু হয়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হওয়ায় এ বছর ঢাকায় নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় মেলা। কিন্তু চট্টগ্রামে শুরু হয়নি। এ বিষয়ে চসিককে কোনো উদ্যোগও নিতে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র আজাদীতে ‘চট্টগ্রামে হচ্ছে না একুশের বইমেলা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর নড়েচড়ে বসে চসিক। সর্বশেষ গতকাল প্রস্তুতি সভা করে ঘোষণা দেয়া হয় বইমেলা আয়োজনের।

প্রস্তুতি সভায় সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে একুশে বইমেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। তবে এ বছর জাতীয় নির্বাচনসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে প্রকাশক ও সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে সেই আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। নির্বাচনী কার্যক্রম শেষ হওয়ায় এখন সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শক্রমে স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত রাখতে স্বাধীনতা বইমেলার আয়োজন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ৩১ মার্চ বইমেলার উদ্বোধনী দিনে জাতির কৃতি সন্তানদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘স্বাধীনতা সম্মাননা পুরস্কার’ প্রদান করা হবে। প্রাথমিকভাবে নগরীর জিমনেসিয়াম মাঠকে মেলার ভেন্যু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডা. শাহাদাত বলেন, বইমেলা শুধু বই বিক্রির আয়োজন নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন। নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধীনতার চেতনা এবং সাহিত্যসংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, বইমেলার আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রখ্যাত একাডেমিশিয়ান, লেখক, গবেষক এবং বিভিন্ন পেশার স্বনামধন্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হবে। পাশাপাশি প্রকাশক ও পাঠকদের অংশগ্রহণে মেলাকে প্রাণবন্ত করে তুলতে বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে রাখেন চসিকের সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, সমাজকল্যাণ ও সংস্কৃতি কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ, চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি সাহাব উদ্দিন হাসান বাবু এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল রানা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধটেকনাফে সাড়ে ১১ কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ
পরবর্তী নিবন্ধশাহ সুফি আমানত (রহ.) এর আধ্যাত্মিক যাত্রা