চট্টগ্রামে ১৮ জুন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাবে ৮ লক্ষাধিক শিশু

সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অ্যাডভোকেসি ও পরিকল্পনা সভা

| বৃহস্পতিবার , ১৫ জুন, ২০২৩ at ৫:২৮ পূর্বাহ্ণ

সারা দেশের ন্যায় আগামী ১৮ জুন চট্টগ্রাম জেলায় অনুষ্ঠিত হবে দিনব্যাপী জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। ঐ দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার স্থায়ী, ভ্রাম্যমান ও অস্থায়ী কেন্দ্রে ৬১১ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লক্ষ আই.ইউ) ও ১২৫৯ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লক্ষ আই.ইউ) খাওয়ানো হবে।

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে জেলার ১৫ উপজেলায় ২’শ ইউনিয়নের ৬’শ ওয়ার্ড, ১৬টি স্থায়ী কেন্দ্র, ১৫টি ভ্রাম্যমান কেন্দ্র ও ৪ হাজার ৮’শ অস্থায়ী কেন্দ্রে মোট ৮ লাখ ২০ হাজার ৪৮০ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তন্মধ্যে জেলায় ৬১১ মাস বয়সী ৯৪ হাজার ৯১ জন শিশুকে একটি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লক্ষ আই.ইউ) ও ১২৫৯ মাস বয়সী ৭ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৯ জন শিশুকে একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লক্ষ আই.ইউ) খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত জেলা পর্যায়ে অ্যাডভোকেসী ও পরিকল্পনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী একথা বলেন। স্যানিটারী ইন্সপেক্টর টিটু কান্তি পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওডিসি ডা. মোহাম্মদ নুরুল হায়দার, এমওসিএস ডা. মো. নওশাদ খান ও ডিএসএমও ডা. আবদুল্লাহিররাফি অঝোর।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় পুষ্টি সেবার বাস্তবায়নে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় অ্যাডভোকেসী সভার আয়োজন করে। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলার ১৫ জেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ও মেডিকেল অফিসারসহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অধীন সর্বস্তরের কর্মকর্তাকর্মচারীরা ।

সিভিল সার্জন বলেন, গত ২০ ফেব্রুয়ারি জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে ৬১১ মাস বয়সী মোট ৯১ হাজার ৯১৫ জন শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লক্ষ আই.ইউ) খাওয়ানো হয়েছিল যার অর্জিত হার ৯৮ শতাংশ এবং ১২৫৯ মাস বয়সী ৭ লাখ ১২ হাজার ৬৪৪ জন শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লক্ষ আই.ইউ) খাওয়ানো হয়েছিল যার অর্জিত হার ৯৯ শতাংশ।

জেলার বাইরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠেয় ক্যাম্পেইন সফল করতে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। আগামী ১৮ জুন রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উপজেলাগুলোতে ৫৪ জন স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ২০০ জন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ৫৪০ জন স্বাস্থ্য সহকারী, ৭৪৮ জন পঃ পঃ সহকারী, ১৯৬ জন পঃ পঃ পরিদর্শক, ৯ হাজার ৬৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক, ১৫ জন স্যানিটারী ইন্সপেক্টর, ৫১১ জন সিএইচসিপি ও ৮৫ জন স্যাকমো জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে নিয়োজিত থাকবে। ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে।

ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, কর্মসুচি সফল করতে সকল ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ৬৫৯ মাস বয়সী সকল শিশু যাতে ঐদিন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাসসুল পায় সে লক্ষে সর্বত্র মাইকিং করে জনগণকে জানান দেয়া হবে। ভ্রমণে থাকাকালীন সময়েও রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল, ফেরী ঘাট ও লঞ্চ ঘাটে অবস্থিত টিকা কেন্দ্রসহ যে কোন টিকাদান কেন্দ্র থেকে শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে পারবে। জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রচারপ্রচারণা অব্যাহত রাখতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, আনসারভিডিপি ও এনজিও সংস্থাগুলো কাজ করবে। সরকারি কর্মকর্তা, মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী শিশুদেরকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কাজে নিয়োজিত থাকবে। সকলের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে কর্মসূচি সফল হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধস্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্কাউটদের নেতৃত্ব দিতে হবে
পরবর্তী নিবন্ধশেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল