চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হাম কর্নারে চলতি এপ্রিলে ১৮৫ শিশু হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এদের মধ্যে আবার ১৮ জনের হাম ধরা পড়েছে। গতকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬৯ শিশু। চমেক হাসপাতালের বাইরে ২৫০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, ফৌজদারহাট বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতাল, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুরা চিকিৎসা নিচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত একজন হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তার বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়ায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামে আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে–এদের মধ্যে অধিকাংশ শিশু হয় হামের টিকা দেয়নি অথবা একডোজ টিকা দিয়েছে। টিকা দেয়ার বয়স হয়নি এমন শিশুও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার ইতোমধ্যে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে এবং ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরীতে ৬ মাস থেকে ৪ বছর ১১ মাস ২৯ দিন বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ টিকা দেয়া হবে। হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় আগে হামের প্রথম ডোজ ৯ মাসে দেয়া হলেও এখন সেটি ৩ মাস এগিয়ে আনা হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল নতুন করে আরো ১৯ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের সবাই চট্টগ্রাম নগরের বাসিন্দা। এছাড়া এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে একজনের। অপরদিকে গতকাল পর্যন্ত ২৩ শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজলস–রুবেলা ল্যাবরেটরিতে (এনপিএমএল) পাঠানো হয়েছে। এখন মোট নমুনা পাঠানো হয়েছে ৩২৮ শিশুর।
চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিঞা বলেন, আমাদের হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা বেশিরভাগ শিশু টিকা নেয়নি। আবার কিছু শিশুর টিকা নেয়ার বয়স হয়নি, আবার কিছু শিশু এক ডোজ টিকা নিয়ে দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি। আবার দুই ডোজ টিকা নেয়ার পরে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে এমন শিশুও আছে। তবে অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। সরকার এখন টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে অবিস্থত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মামুনুর রশীদ বলেন, আমাদের হাসপাতালে বর্তমানে ১৬ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছে। এদের মধ্যে ১০ জনের বয়স ১২ বছরের নিচে এবং বাকি ৬ জন ১২ বছরের ওপরে। হাম রোগ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে টিকাদান কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। হামের উপসর্গের দিকে অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে যদি কোনো শিশুর জ্বরের সাথে কফ, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং র্যাশ আসে তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কারণ এই রোগে নিউমোনিয়াও হতে পারে। বাসায় নিয়ে বসে থাকলে বিপদ হতে পারে। তাই অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। হাম রোগ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। সাধারণত ৫ বছরের নিচে শিশুরা হামের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে। দ্বিতীয় সারির ঝুঁকিতে থাকে ৫ থেকে ১৪ বছরের শিশুরা। তাই হামের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা করা যাবে না।














