চট্টগ্রামে হচ্ছে এইউডব্লিউ কমিউনিটি স্কুল

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ১৭ মার্চ, ২০২৬ at ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ সমপ্রসারণে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (এইউডব্লিউ)। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি জাপান সরকারের সঙ্গে একটি অনুদান চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই অনুদানের মাধ্যমে চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠা করা হবে ‘এইউডব্লিউ কমিউনিটি স্কুল’, যেখানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা হবে।

গতকাল সোমবার ঢাকায় জাপান দূতাবাসে অনুষ্ঠানে চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইম্যানের উপাচার্য ড. রুবানা হক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি। জাপান সরকারের ‘গ্রান্ট অ্যাসিস্ট্যান্স ফর গ্রাসরুটস হিউম্যান সিকিউরিটি প্রজেক্টস’ (জিজিএইচএসপি) কর্মসূচির আওতায় এই অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।

চুক্তির আওতায় চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একটি পৃথক স্কুল ভবন নির্মাণ করা হবে। এই স্কুলটি কমিউনিটিভিত্তিক শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হবে, যেখানে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি তাদের দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক অগ্রগতির সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, স্কুলটি মূলত চট্টগ্রামের আরেফিন নগর ও আশপাশের নগরাঞ্চলের শিশুদের জন্য গড়ে তোলা হবে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের আশপাশে থাকা বিভিন্ন নিম্নআয়ের ও অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাসকারী পরিবারের শিশুদের এতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ‘এইউডব্লিউ কমিউনিটি স্কুল’ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব এডুকেশন কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিচালিত হবে এবং শিক্ষাদান পদ্ধতির নতুন উদ্ভাবনী মডেল পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হবে। স্কুলটির পরিকল্পনা, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্নাতকেরা সরাসরি যুক্ত থাকবেন। স্কুলটি চালু হলে প্রতিবছর কিন্ডারগার্টেন থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী এখানে পড়ার সুযোগ পাবে। শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একটি ইতিবাচক ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইম্যানে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ২০টিরও বেশি দেশ থেকে মেধাবী কিন্তু সুবিধাবঞ্চিত তরুণীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক হাজার ৮০০এর বেশি শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী সেখানে অধ্যয়ন করছেন। তাদের অধিকাংশই নিজ পরিবারে প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন এবং প্রায় সবাই পূর্ণ আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশহীদ ওয়াসিম স্মরণে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামস্থ ছাগলনাইয়া সমিতির ইফতার ও দোয়া মাহফিল