আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণে নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের নির্বাচনী এলাকাগুলোতে পৌঁছে গেছে ব্যালট পেপার ছাড়া অন্য সকল নির্বাচনী সামগ্রী। আজ প্রতিটি সংসদীয় আসনে যাবে ব্যালট পেপার। এদিকে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০ হাজারের বেশি সদস্য এবার ভোটকেন্দ্র ও ভোটের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে চট্টগ্রামের সর্বত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা মাঠে মেনেছে।
শেষ হয়ে আসছে প্রার্থী এবং তাদের কর্মী–সমর্থকদের সকল ধরনের প্রচার–প্রচারণা। আর ৪ দিন পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হবে প্রার্থীদের প্রচার–প্রচারণা। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে প্রার্থী ও সমর্থকদের সকল ধরনের প্রচার–প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাবে। চট্টগ্রামের ১৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ১১৫ প্রার্থী। এদিকে চট্টগ্রামের নির্বাচনী এলাকাসমূহে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ৬৯ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অপরাধসমূহ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষে ৩১ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর আগে প্রার্থীদের আচরণবিধি মনিটরিংয়ে প্রতিটি সংসদীয় আসনের জন্য ৪২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সব মিলে চট্টগ্রামে ১৪২ জন জুডিসিয়াল ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন।
চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ১,৯৬৫টি ভোটকেন্দ্র এবং ১২,০০১টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণের জন্য ৪০ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে (প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে ৭ দিনের জন্য। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ঘিরে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকছে। গত বুধবার এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভোটের মাঠে আগে–পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন ৭ দিন।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, চট্টগ্রামে নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৪০ হাজারের মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে নেমেছে। তারা আজ সন্ধ্যা (শনিবার) থেকে কাজ শুরু করে দিয়েছে। নির্বাচনে আগের দিন পর্যন্ত এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
১৬ আসনে ১১৫ প্রার্থী : চট্টগ্রামের ১৬ আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, জাতীয় পার্টি, এলডিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, সুপ্রিম পার্টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্ট, গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল–জেএসডি, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দলের এবং স্বতন্ত্র মিলে এখন ১১৫ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় কত সদস্য : প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৩ থেকে ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে অস্ত্রসহ পুলিশ, অস্ত্রসহ আনসার–ভিডিপি সদস্য, লাঠিসহ পুরুষ ও মহিলা আনসার–ভিডিপির সংখ্যা ১০ জন, গ্রাম পুলিশ থাকবে ১ থেকে ২ জন। এছাড়া পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড থাকবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পরিপত্র জারি অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে (জেলায়) প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ২ জন পুলিশ (অস্ত্রসহ), ১ জন আনসার (অস্ত্রসহ), প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য ১ অস্ত্রসহ আনসার সদস্য, ১ অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার, সহকারী সেকশন কমান্ডার (অস্ত্রসহ), অঙ্গীভূত আনসার/ সাধারণ আনসার ও ভিডিপি (মহিলা ৪ জন, পুরুষ ৬ জন) মোট ১০ জন লাঠিসহ। গ্রাম পুলিশ ১ থেকে ২ জন লাঠিসহ। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ ৩ জন অস্ত্রসহ, আনসার ১ জন, সেকশন কমান্ডার (অস্ত্রসহ), প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য ১ অস্ত্রসহ আনসার সদস্য, ১ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য অস্ত্রসহ, অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার ও ভিডিপি (মহিলা ৪ জন, পুরুষ ৬ জন) মোট ১০ জন লাঠিসহ এবং গ্রাম পুলিশ ১ থেকে ২ জন লাঠিসহ।
মেট্রোপলিটন এলাকার ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ৩ জন অস্ত্রসহ, অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার ১ জন অস্ত্রসহ, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য ১ অস্ত্রসহ আনসার সদস্য, অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার ১ জন অস্ত্রসহ, অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার ও ভিডিপি (মহিলা ৪ জন, পুরুষ ৬ জন) মোট ১০ জন লাঠিসহ। মেট্রোপালিটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে থাকবে পুলিশ ৪ জন অস্ত্রসহ, অঙ্গীভূত আনসার ১ জন (অস্ত্রসহ), প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য ১ অস্ত্রসহ আনসার সদস্য, ১ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য অস্ত্রসহ, অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার ও ভিডিপি (মহিলা ৪ জন, পুরুষ ৬ জন) মোট ১০ জন লাঠিসহ দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে প্রার্থী এবং তাদের কর্মী–সমর্থকদের শেষ মুহূর্তের প্রচার–প্রচারণায় নগরীর অলি–গলি থেকে প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদ এখন সরগরম। নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিস থেকে জানা গেছে, গতকাল রাতে ব্যালট পেপার এসে পৌঁছেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় আজ নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছে যাবে ব্যালট পেপার। এর আগে নির্বাচনী সকল সামগ্রী পৌঁছে গেছে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায়। চট্টগ্রামের ১৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭ জন এবং মহিলা ভোটার সংখ্যা ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০ জন। এবার তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭০ জন।












