চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাইকালে
বাতিল হওয়া ৪২ জন প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচন কমিশনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছেন চট্টগ্রাম–৯ কোতোয়ালী আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হক ও চট্টগ্রাম–৫ হাটহাজারী আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শাকিলা ফারজানাসহ ১৪ জন। গত ১ জানুয়ারি থেকে ৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনের ১৪৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই করেন চট্টগ্রামের তিন রিটার্নিং অফিসার। মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাইকালে নানা ত্রুটির কারণে রিটার্নিং অফিসারগণ–জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, স্বতন্ত্র, এলডিপি, গণঅধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, লেবার পার্টি, আমার বাংলাদেশ পার্টিসহ বিভিন্ন দলের ৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া ৪২ প্রার্থীর মধ্যে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রার্থিতা ফিরে পেতে ১৪ জন প্রার্থী আপিল করছেন।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (আইন শাখা–২) মো. আরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত আপিল শুনানির সময়সূচির চিঠিতে জানা যায়, প্রার্থিতা ফিরে পেতে যারা নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন তাদের আপিলের শুনানি শুরু হবে আগামীকাল ১০ জানুয়ারি থেকে। শুনানি চলবে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত।
প্রার্থিতা ফিরে পেতে চট্টগ্রাম থেকে আপিল করেছেন যারা : মনোনয়নপত্র বাছাইকালে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক চট্টগ্রাম–৯ কোতোয়ালী আসনে জামায়াতের ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ডা. এ কে এম ফজলুল হকের বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও তার নাগরিকত্ব আছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন গৃহীত হওয়ার কোনো কাগজপত্র ওইদিন (মনোনয়নপত্র বাছাইকালে) জমা দিতে না পারায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। প্রার্থিতা ফিরে পেতে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম–৯ কোতোয়ালী আসনের বাতিল হওয়া নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মো. নুরুল আবছার মজুমদার আপিল করেছেন।
চট্টগ্রাম–৫ হাটহাজারী আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা মনোনয়ন ফিরে পেতে আপিল করেছেন। একই আসনের অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদও প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছেন।
চট্টগ্রাম–৩ সন্দ্বীপ আসনে বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলা আপিল করেছেন। চট্টগ্রাম–৭ রাঙ্গুনিয়া আসনে বাতিল হওয়া গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. বেলাল উদ্দীন আপিল করেছেন। একই আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির প্রার্থী মো. আবদুর রহমানও প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন। চট্টগ্রাম–১০ ডবলমুরিং–হালিশহর ও পাহাড়তলী আসনের বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী মো. ওসমান গনি তার প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছেন। একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নত আকতার তার প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছেন। চট্টগ্রাম–১১ বন্দর–পতেঙ্গা আসন থেকে তিনজন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ভূইয়া, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. নুর উদ্দিন এবং গণ অধিকার পরিষদের মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছেন। চট্টগ্রাম–১২ পটিয়া আসনের এলডিপির প্রার্থী এম এয়াকুব আলী তার প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন । চট্টগ্রাম–১৬ বাঁশখালী আসনে বাতিল হওয়া গণ অধিকার পরিষদের মো. আরিফুল হক তার প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছেন।












