টিসিবি’র স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড জটিলতার কারণে চট্টগ্রামে প্রায় আড়াই লাখ গরীব–অসহায় পরিবার প্রতি মাসে টিসিবির ন্যায্যমূল্যের নিত্যপণ্য সামগ্রী (চাল–তেল–ডাল ও চিনি) পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকার দেশব্যাপী গরীব–অসহায় মানুষজন যাতে প্রতিদিনের নিত্যপণ্য সামগ্রী সরকারি ন্যায্যমূল্যে পায় সে জন্য টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে বিতরণের উদ্যোগ নেয়। আগে নগরী ও জেলা পর্যায়ে হাতে লেখা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিতরণ করা হলেও গত এক বছর আগে সরকার টিসিবির পণ্য বিতরণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনা লক্ষ্যে ভোক্তাদের ডাটাবেজের আওতায় আনার লক্ষ্যে ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে। যারা ‘টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ পাবেন তাদের সবার ডাটাবেজ এক সার্ভারে অন্তর্ভুক্ত করা উদ্যোগ নেয়া হয়। টিসিবির ওয়েব সাইটে ভোক্তাদের ডাটা আপলোড করার জন্য ওয়ার্ড ভিক্তিক সিটি কর্পোরেশনের সচিবদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়। আগে চট্টগ্রাম মহানগরী ও উপজেলায় মিলে (যখন হাতে লেখা ফ্যামিলি কার্ড ছিল তখন) মোট ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৮২ জন কার্ডধারী পরিবার প্রতিমাসে টিসিবির নিত্যপণ্য সামগ্রী পেতেন বলে জানান টিসিবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের অফিস প্রধান শফিকুল ইসলাম।
এই ব্যাপারে তিনি বলেন, ভোক্তাদের ডাটাবেজের আওতায় এনে ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার পর গত এক বছরে নগরী ও জেলায় মাত্র ৩ লাখ ১ হাজার ভোক্তাকে ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এখনো ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮২ পরিবার ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ পাননি। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের অফিস প্রধান শফিলংল ইসলাম গতকাল আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪১ ওয়ার্ডের জন্য টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বরাদ্দ রয়েছে ৩ লাখ ৯৬৩টি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত নগরীতে মাত্র টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড অ্যাক্টিভ হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার। আর চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার জন্য টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড বরাদ্দ রয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার। কিন্তু এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় মাত্র ১ লাখ ৯৬ হাজার ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ অ্যাক্টিভ হয়েছে। যাদের ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ অ্যাক্টিভ হয়েছে শুধুমাত্র সেই পরিবার গুলোই টিসিবির পণ্য পাচ্ছেন। তিনি বলেন, স্মাট কার্ডের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড সচিবদের। যাদের কার্ড আছে তারা পণ্য পাচ্ছেন। তবে টিসিবির ওয়েব সাইটে ডাটা এন্টি করার প্রক্রিয়া অনেক জটিল হওয়ার কারণে ঠিক মত ডাটা এন্টি করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড সচিবরা।
চসিকের বেশ কয়েকজন ওয়ার্ড সচিব আজাদীকে জানান, টিসিবির ওয়েবসাইটে ভোক্তাদের ডাটা আপলোড করার পর ভেরিফিকেশনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। প্রতিদিন যতজন ভোক্তার ডাটা আমরা ওয়েব সাইটে আপলোড করেছি টিসিবি তত ভেরিফাইড করেছে না। একজন লোকের ডাটা এন্টি করা পরও চেহারা সনাক্তকরণসহ নানান জটিলতায় ভেরিফিকেশন না হওয়ায় ওই লোক তার প্রতিদিনের কাজ বাদ দিয়ে কয়েকবার আসার পর আর আসেন না।
কার্ড না হওয়ার বিষয়ে চসিক ২৮নং ওয়ার্ড সচিব আব্দুল মজিদ আজাদীকে বলেন, আমাদের ওয়ার্ডে মোট বরাদ্দ ৫ হাজারের মতো। কিন্তু কার্ড এসেছে মাত্র ৮০০টি। আবেদন করা হয়েছে আরও ২ হাজার ২শ জনের জন্য। কিন্তু কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও ঢাকা থেকে কার্ড আসছে না। প্রতিদিন গ্রাহকরা কার্ডের জন্য এসে হতাশ হয়ে ফেরত যাচ্ছেন। ঢাকা থেকে কার্ড প্রাপ্তির বিষয়টি যদি তাড়াতাড়ি হয় তাহলে গ্রাহকরা উপকৃত হতো।
৩৯নং ওয়ার্ড সচিব খাইরুল ইসলাম বলেন, আমাদের ওয়ার্ডে মোট বরাদ্দ ৯ হাজার ১শ জনের। এ পর্যন্ত কার্ড পাওয়া গেছে ৪ হাজার জনের। আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে সাড়ে ৫ হাজারের মতো। তিনি বলেন, মূলত কয়েকটি কারণে টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড হচ্ছে না। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আবেদন করার পর ঢাকা থেকে কার্ডগুলো আসতে দেরি হওয়া। আবেদন করার পর মাসের পর মাস কার্ড না আসায় গ্রাহকরা আবেদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এছাড়াও ভোটার আইডি কার্ডের সাথে রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল নাম্বার না দিয়ে অন্য নাম্বার দেওয়ায় অনেক আবেদন বাদ পড়ে যাচ্ছে।












