নারী ‘স্প্রে পার্টি’র কবলে পড়ে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা হারিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের মো. মুসার ছেলে মো. জাবেদ উদ্দিন নয়ন (২১)।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের হাজীগাঁও এলাকার মনুমিয়ার দিঘীর পাড়ে সড়কের পাশে তাঁকে স্থানীয়রা পড়ে থাকতে দেখে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়।
ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাতে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরেন নয়ন। তিনি পেশায় একজন শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
ভুক্তভোগী নয়ন জানান, তাঁর প্রবাসী বড় ভাইয়ের পাঠানো ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা নিয়ে আনোয়ারার চাতরী চৌমুহনী এলাকা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন তিনি। অটোরিকশায় আগে থেকেই বোরকা পরা দুই নারী ও এক পুরুষ যাত্রী বসা ছিলেন। ওই ব্যক্তি পথে নেমে যাওয়ার পর চালকের কথায় পেছনের আসনে বসেন নয়ন।
একপর্যায়ে দুই নারীর আচরণে সন্দেহ হলে অটোরিকশা থেকে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় ওই নারীরা তাঁকে টেনে ধরে মুখে স্প্রে করেন। পরে তাঁর কাছে থাকা টাকা নিয়ে তাঁকে অচেতন অবস্থায় সড়কের পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। এর পরের ঘটনা তাঁর স্পষ্ট মনে নেই।
আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মো. মুজিবুর রহমান বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনের দায়িত্ব পালন শেষে শনিবার রাতে ফেরার পথে হাজীগাঁও এলাকার মনু মিয়ার মসজিদের কাছে সড়কের পাশে এক যুবককে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁরা তাঁকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন চৌধুরী বলেন, শনিবার রাতে নয়নকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, চেতনানাশক কোনো পদার্থ খাওয়ানো বা স্প্রে করার কারণে তাঁর এমন অবস্থা হয়েছে। হাসপাতালে আনার সময় তাঁর শরীর কাঁপছিল।












