প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) এবং গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, গণভোট নিয়ে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পলাতক ফ্যাসিবাদীরা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে লুটপাটের টাকা খরচ করে এই পরিকল্পিত মিথ্যাচার করছে। জনগণকে সত্যটা জানানোর মধ্য দিয়ে মিথ্যাকে পরাভূত করতে হবে। তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, আলেম সমাজ, ছাত্র, আপামর জনতা নির্যাতিত–নিপীড়িত হয়েছেন।
জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর সেই শহিদদের রক্তেই রচিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেইসব শহিদের রক্তের দায় আমরা যেন ভুলে না যাই। গতকাল বিকালে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নতুন প্রজন্মের জন্য একটি ভবিষ্যত তৈরি করার দায়িত্ব আমাদের সবার উল্লেখ করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, যে প্রতিশ্রুতি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে ছিল, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ছিল, সেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ আমরা চাই কিনা তা নির্ধারণেই এবারের গণভোট। তিনি বলেন, দুর্নীতি ঠেকানোর কোনো পথ এত দিন পরেও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে আমাদের দেশে করা সম্ভব হয় নাই। সরকারি দলের লুটপাটকে উপেক্ষা করে বিরোধী দলকে দমনে দুর্নীতি দমন কমিশনকে বার বার ব্যবহার করা হয়েছে। বিদ্যমান সংবিধানে কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ত্রুটির সুযোগ নিয়ে এতদিন দুদককে এই হীন স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে মন্তব্য করে আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদে এই বিদ্যমান ব্যবস্থাকে সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া জনগণ গণভোটে সংস্কারের পক্ষে সম্মতি দিলে সরকারের আর্থিক বিষয়াদি তদারকির জন্যও সংসদে বিরোধী দলের নেতৃত্বে একাধিক কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে। জুলাই সনদ বিষয়ে তিনি বলেন, এই সনদ কাগজে কালো কালিতে লেখা মনে হলেও এর প্রতিটি অক্ষর লেখা হয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদের রক্ত দিয়ে। এই ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে এবং রাষ্ট্রের আমূল সংস্কার নিশ্চিত করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করা সময়ের দাবি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা) মনির হায়দার বলেন, ফ্যাসিস্টরা এখন লুটপাটের টাকায় মিথ্যাচার ছড়িয়ে, অপপ্রচার চালিয়ে জাতির ঘুরে দাড়ানোর প্রয়াসকে ব্যর্থ করে দিতে চাইছে। গণভোট নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আমরা এখানে এসেছি উল্লেখ করে মনির হায়দার বলেন, জুলাই সনদ আমাদের জাতির ভবিষ্যত গড়ার একটি স্থায়ী দলিল। এই সত্যটি জনগণকে বোঝালে মিথ্যা এমনিতে বিলীন হয়ে যাবে। মনির হায়দার আরো বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা একটা বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, যেখানে নাগরিকদের সমতা, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অথচ ৫৪ বছর পরে এসেও আমরা একটি বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার জন্য যুদ্ধ করছি। তিনি বলেন, যে পরিবর্তনের জন্য আমরা ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করেছিলাম, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ ধরে সেই প্রচেষ্টাকে সামনের দিকে নিয়ে যেতেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন উপস্থিত আলেম ওলামাগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে বান্দার হক, মজলুমের হক তাদের কাছে পৌছে দেয়ার জন্য। বিগত আমলে শত অত্যাচার– নির্যাতন করেও আলেমদের সত্য বলা থেকে বিরত রাখা যায় নাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আপনারা ভূমিকা রাখলে সকল ভোট ‘হ্যাঁ’ –এর পক্ষেই পড়বে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত) মনির হায়দার, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, চট্টগ্রামের রেঞ্জ ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ, সিএমপি পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মাঠ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।











