চট্টগ্রামে গত দুই সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গু জ্বরের সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে। চলতি মাসে গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ জন। এরমধ্যে নগরীতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ জন এবং উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ জন। এছাড়া গতকাল সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন শুধু একজন। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত থেমে থেমে বৃষ্টি এবং ভ্যাপসা গরম ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার প্রজননে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে বর্তমানে আবহাওয়া ঠাণ্ডা এবং বৃষ্টিপাতও শূন্যের কোটায়। ফলে এডিস মশার প্রজনন সেভাবে হচ্ছে না। বৃষ্টি হলে বিভিন্ন জায়গায় স্বচ্ছ পানি জমছে। বিশেষ করে ফুলের টব ও ডাবের খোসা, গাড়ির টায়ারসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত বস্তুতে পানি জমার কারণে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা প্রজনন বাড়ে। বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়েও ডেঙ্গুবাহী মশা জন্মে।
চট্টগ্রাম সিভিল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৮৬৪ জন। এরমধ্যে জানুয়ারিতে ৭০ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২৮ জন, মার্চে ২২ জন, এপ্রিলে ৩৩ জন, মে–তে ১১৬ জন, জুনে ১৭৬ জন, জুলাইয়ে ৪৩০ জন, আগস্টে ৭০৫ জন, সেপ্টেম্বরে ৯৩৫ জন, অক্টোবরে ৯৯০ জন, নভেম্বরে ১ হাজার ৭ জন এবং ডিসেম্বরে ৩৫২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। অপরদিকে ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে মোট ২৭ জন মারা গেছেন। এরমধ্যে জানুয়ারিতে ১ জন, এপ্রিলে ১ জন, জুলাইয়ে ৭ জন, আগস্টে ৬ জন, সেপ্টেম্বরে ৪ জন, অক্টোবরে ১ জন, নভেম্বরে ৬ জন এবং ডিসেম্বরে মারা গেছেন ১ জন।
চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ এখন কমে গেছে। তবে ডেঙ্গু যেহেতু একেবারে বিদায় নেয়নি, তাই নাগরিকদের সতর্ক থাকতে হবে। এখন সাময়িক হয়তো আবহাওয়াগত কারণে ডেঙ্গু জ্বরের রোগী কমেছে। তাই জ্বর হলে অবহেলা করা যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শে অবশ্যই ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে। আর কারো যদি ডেঙ্গু হয়ে যায়, তবে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ডেঙ্গুর জন্য বিশেষ কোনো চিকিৎসা নাই। ডেঙ্গু রোগীর মূল চিকিৎসা হচ্ছে ফ্লুইড ম্যানেজম্যান্ট। অনেক অনেক রোগী এনএসওয়ান রিপোর্ট হওয়ার সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যাচ্ছেন। এটির আসলে কোনো দরকার নাই। ডেঙ্গুর প্ল্যাটিলাট কাউন্ট ১০ হাজারের নিচে নেমে গেলে তখন ইন্টারনাল ব্লিডিং শুরু হয়। তখন ক্রিটিক্যাল কেয়ার ম্যানেজম্যান্টের প্রয়োজন পড়ে। আবার প্ল্যাটিলেট কমা শুরু হয় জ্বর কমে যাওয়ার পর পর। তখন শারীরিক কিছু অসুবিধা দেখা দেয়। ওই সময় হাসপাতালে ভর্তি হতে পারে। প্ল্যাটিলেট যখন বাড়া শুরু হয় তখন দ্রুতই বাড়ে। কাজেই ডেঙ্গু জ্বর হলেই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্তের গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কমছে। আসলে বছরের এই সময়টাতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিচের দিকে থাকে। তারপরেও নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। বাড়ির ফুলের টব কিংবা বাড়ির ছাদে যাতে পানি জমে না থাকে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩২৩ জন এবং মারা যান ৪৫ জন। এর আগে ২০২৩ সালে আক্রান্ত হয়েছিল ১৪ হাজার ৮৭ জন। এরমধ্যে মারা যায় ১০৭ জন। এছাড়া ২০২২ সালে মোট আক্রান্ত ৫ হাজার ৪৪৫ জনের মধ্যে মারা যান ৪১ জন এবং ২০২১ সালে আক্রান্ত হয় ২২১ জন এবং মারা যায় ৫ জন।










