দেশে ভোজ্যতেলের প্রচুর মজুদ রয়েছে। দর বাড়িয়ে পুরনো মজুদের তেলই বিক্রি করা হচ্ছে। প্রচার করা হচ্ছে সংকটের। এমন প্রচারণার মাঝে চলতি সপ্তাহে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে ৫২ হাজার টনের বেশি অপরিশোধিত সয়াবিন তেল। জাহাজ থেকে খালাসের পর এগুলো কারখানায় নিয়ে পরিশোধন করে বাজারে ছাড়া হবে। আশা করা হচ্ছে, কয়েকদিনের মধ্যে এসব তেল বাজারে সরবরাহ শুরু হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দরে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থেকে চারটি ট্যাংকারে বোঝাই হয়ে ৫২ হাজার ১০০ টন ক্রুড সয়াবিন তেল চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। এর মধ্যে ২১ হাজার ৫০০ টন তেল নিয়ে এমটি আরডমোর শায়ানি ও এমটি ডাম্বলডোর গত শনিবার বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। জাহাজ দুটির মধ্যে এমটি আরডমোর শায়ানি থেকে তেল খালাস সম্পন্ন হয়েছে। অপর জাহাজটি থেকে তেল খালাস শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে।
গতকাল ৩০ হাজার ৬০০ টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল নিয়ে এমটি সানি ভিক্টরি ও এমটি জিঙ্গা থ্রেশার বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। এর মধ্যে সানি ভিক্টরি ব্রাজিল থেকে এবং জিঙ্গা থ্রেশার আর্জেন্টিনা থেকে তেল নিয়ে এসেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, ৫২ হাজার টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ৪টা জাহাজ এসেছে। একটা জাহাজের তেল খালাস অলরেডি শেষ হয়েছে। বাকি তিনটিও আউটার অ্যাংকারেজে খালাসের প্রক্রিয়ায় আছে।
সূত্র মতে, জাহাজ চারটির মধ্যে টিকে গ্রুপ এনেছে ২৫ হাজার টন, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ৭ হাজার ১০০ টন এবং টিকে গ্রুপ এনেছে ২০ হাজার টন তেল। আমদানি করা এসব তেলের টনপ্রতি ১ হাজার ২১৭ ডলার দর পড়েছে বলে কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে।
আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে এসব তেল বাজারে সরবরাহ শুরু হবে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, তেলের প্রচুর যোগান রয়েছে। দেশে ভোজ্যতেলের সংকট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। ক্রেতাদের পকেট থেকে টাকা হাতানোর জন্য সংঘবদ্ধ একটি চক্র ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। দাম বাড়ার পর পুরনো তেল নতুন দরে বিক্রি করছে। বাজারে তেল না থাকার প্রচারণা করে দাম বাড়ালেও গতকাল শহরের সর্বত্র ভোজ্যতেল পাওয়া গেছে।