চট্টগ্রামের ১৪৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাই ২ থেকে ৪ জানুয়ারি

ঋণ ও বিল খেলাপিদের তথ্য চেয়ে নির্বাচন কমিশনের চিঠি

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ at ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীরা গত ২৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের তিনজন রিটার্নিং অফিসারের কাছে তাদের মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। চট্টগ্রামের ১৬ আসনে বিএনপিজামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ১৪৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন তাদের মনোনয়ন ফরম বাছাই শুরু হচ্ছে আগামী ২ জানুয়ারি থেকে।

চট্টগ্রাম মহানগরী ও সংশ্লিষ্ট ৫টি নির্বাচনী এলাকার আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাছাই হবে চট্টগ্রামের রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে। এছাড়াও চট্টগ্রাম জেলার ১০টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাছাই হবে চট্টগ্রামের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে। চট্টগ্রাম১১ বন্দরপতেঙ্গা আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র বাছাই হবে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে। চট্টগ্রাম৪ সীতাকুণ্ড আসনের প্রার্থীদের ৩ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ১১টায় বাছাই হবে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে। চট্টগ্রাম৫ হাটহাজারী আসনের প্রার্থীদের ৩ জানুয়ারি সকাল ১১টা থেকে ১২টায় মনোনয়ন পত্র বাছাই হবে বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে। চট্টগ্রাম৮ বোয়ালখালীচান্দগাঁও আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাছাই হবে ৪ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ১১টায় বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে। চট্টগ্রাম৯ কোতোয়ালী আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাছাই হবে ৪ জানুয়ারি সকাল ১১টা থেকে ১২টায় বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে। চট্টগ্রাম১০ ডবলমুরিংহালিশহরপাহাড়তলী আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র বাছাই হবে ৪ জানুয়ারি দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৩টায় বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে। চট্টগ্রাম১ মীরসরাই আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে। চট্টগ্রাম২ ফটিকছড়ি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২ জানুয়ারি সকাল ১১টা থেকে ১২ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে। চট্টগ্রাম৩ সন্দ্বীপ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র বাছাই হবে ২ জানুয়ারি দুপুর ১২টা থেকে ১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে।

চট্টগ্রাম৬ রাউজান আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র বাছাই হবে ৩ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে। চট্টগ্রাম৭ রাঙ্গুনিয়া আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র বাছাই হবে ৩ জানুয়ারি সকাল ১১টা থেকে ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে। চট্টগ্রাম১২ পটিয়া আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র বাছাই হবে ৩ জানুয়ারি দুপুর ১২টা থেকে ১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে। চট্টগ্রাম১৩ আনোয়ারাকর্ণফুলী আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র বাছাই হবে ৪ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে। চট্টগ্রাম১৪ চন্দনাইশসাতকানিয়া আংশিক আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র বাছাই হবে ৪ জানুয়ারি সকাল ১১টা থেকে ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে। চট্টগ্রাম১৫ লোহাগাড়াসাতকানিয়া আসনের

প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র বাছাই হবে ৪ জানুয়ারি দুপুর ১২টা থেকে ১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে। চট্টগ্রাম১৬ বাঁশখালী আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র বাছাই হবে ৪ জানুয়ারি দুপুর ১টা থেকে বিকাল ২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে।

যে সব প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন তাদের মধ্যে কেউ ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপি কিনা এবং বিভিন্ন সেবা সংস্থার যেমনওয়াসা, পিডিবি, বিটিআরসি (টেলিফোনের) এবং গ্যাস বিল বাকি কিনা তার তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও সেবা প্রতিষ্ঠান গুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন সংশ্লিষ্ট রিটর্নিং কর্মকর্তারা। ব্যাংকবীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থা গুলোর কাছে মনোনয়নপত্র জমাদানের পরদিনই চিঠি পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রামের তিন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে যেসব প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন তাদের মনোনয়নপত্র বাছাইকালে যাতে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সেবা সংস্থা গুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন এজন্য এসব প্রতিষ্ঠান গুলোর প্রধানের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে।

নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অফিস, সকল বেসরকারি ব্যাংকের চট্টগ্রামের আঞ্চলিক অফিস, হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম ওয়াসা, কর্ণফুলী গ্যাস, পিডিবি এবং টিএন্ডটিসহ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সেবা সংস্থা গুলোকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়। কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা মনোনয়নপত্র বাছাইকালে উপস্থিত থেকে তার স্বপক্ষে কাগজপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করেন।

নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী কোন ঋণ খেলাপি এবং বিল খেলাপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারেন না। তফসিল ঘোষণার আগে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ এবং সেবা প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ করতে হয়।

এই ব্যাপারে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থীরা ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ১৪৩ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জমা দেয়া মনোনয়নপত্রের বাছাই শেষ হবে ৪ জানুয়ারি। এরপর আপিল ও আপিল নিষ্পত্তি হবে। জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করলে এদের মধ্যে কেউ ঋণ খেলাপি কিনা সেটার তথ্য চেয়ে ব্যাংকবীমা ও সেবা সংস্থার গুলোর কাছে চিঠি দেয়া হয়।

১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন ছিল গতকাল ২৯ ডিসেম্বর সোমবার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন বাছাইয়ের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি। ভোটগ্রহণ আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭জন এবং মহিলা ভোটার সংখ্যা ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০জন। এবার তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭০জন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৯৬৫টি এবং বুথের সংখ্যা ১২৫৯৫টি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহেভেন সিটি সেন্টারের রেস্তোরাঁ মালিক গ্রেপ্তার
পরবর্তী নিবন্ধচকরিয়ায় যুবদল নেতাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ