ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ‘নির্বাচনী সমাঝোতা জোট’ থেকে বেরিয়ে আসা ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’ চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ১৩ আসনে এককভাবে নির্বাচন করছে। এর মধ্যে একটি আসনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী দলটি। এছাড়া আরো দুটি আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলেও দাবি করেছেন দলের দায়িত্বশীল নেতারা।
জানা গেছে, ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি ইসলামী আন্দোলন। এর আগে ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনেই প্রার্থী ছিল দলটির। ভোটের দিন দুপুর সাড়ে ১২টায় কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করে ইসলামী আন্দোলন। এরপরও চট্টগ্রামের ১৬ আসনেই ভোট পায় দলের প্রার্থীরা। যদিও কোনো প্রার্থীই সাড়ে তিন হাজার ভোটও পাননি। সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩৮২ ভোট পান দলের চট্টগ্রাম–১১ আসনের প্রার্থী। এছাড়া ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ভোটের দিন সকালে দলটির মেয়র প্রার্থী মো. জান্নাতুল ইসলাম নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে সরে দাঁড়ান। এরপরও তিনি ৪ হাজার ৯৮০ ভোট পান। হেরে গেলেও ভোট পাওয়ার হিসেবে এটি ছিল এ নির্বাচনে দলটির তৃতীয় অবস্থান।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সর্বশেষ অংশ নেয়া দুটি নির্বাচনে (জাতীয় সংসদ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন) ভোট পাওয়ার এ পরিসংখ্যান থেকে চট্টগ্রামে ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান ‘দুর্বল’ মনে হলেও তা মানতে নারাজ দলের শীর্ষ নেতারা। তারা বলছেন, গত ১৭ বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো ‘স্বচ্ছ’ভাবে হয়নি। তাই জনপ্রিয়তা থাকলেও প্রত্যাশিত রেজাল্ট আসেনি। এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তারা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর চট্টগ্রামের নেতারা জানিয়েছেন, তারা চট্টগ্রাম–১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও পাহাড়তলী) আসনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। এছাড়া চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালী–বাকলিয়া) ও চট্টগ্রাম–১১ (পতেঙ্গা, বন্দর, সদরঘাট ও ইপিজেড থানা এবং ডবলমুরিং থানার একাংশ) আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবেন বলে দাবি করেন তারা।
চট্টগ্রামের ১৩ আসনে লড়ছেন এবার : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম–৬ (রাউজান) ও চট্টগ্রাম–১৩ (আনোয়ারা ও কর্ণফূলী) ছাড়া বাকি ১৪ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন ইসলামী আনেন্দালনের প্রার্থীরা। এর মধ্যে চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ) আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন এর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ফলে নির্বাচনী মাঠে দলের প্রার্থী আছেন ১৩ আসনে। অবশ্য উচ্চ আদালতের মাধ্যমে প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার আশা করছেন চট্টগ্রাম–৩ আসনের প্রার্থী। অন্য আসনগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম–১ (মিরসরাই) আসনে ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) মোহাম্মদ জুলফিকার আলী মান্নান, চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড) আসনে মো. দিদারুল মাওলা, চট্টগ্রাম–৫ (হাটহাজারী) আসনে মতি উল্লাহ নূরী, চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে আবদুল্লাহ আল হারুন, চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ আংশিক) আসনে মোহাম্মদ নুরুল আলম, চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালী–বাকলিয়া) আসনে আব্দুস শুক্কুর, চট্টগ্রাম–১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও পাহাড়তলী) আসনে মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম, চট্টগ্রাম– ১১ (পতেঙ্গা, বন্দর, সদরঘাট ও ইপিজেড থানা এবং ডবলমুরিং থানার একাংশ) আসনে মো. নূর উদ্দিন, চট্টগ্রাম–১২ (পটিয়া) আসনে এসএম বেলাল নূর, চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনে মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া– লোহাগড়া) আসনে শরীফুল আলম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী) আসনে হাফেজ রুহুল্লাহ প্রতিদ্বদ্ধিতা করছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রাম–৩ আসনের প্রার্থীতা ফিরে পাব আশা করি। আপিলে কিছু কাগজপত্র রোববারের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়। সেগুলো দিলে প্রার্থী ফিরে পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম–৩ ও চট্টগ্রাম–১০ নিয়ে আমরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। বৃহত্তর চট্টগ্রাম হিসেবে করলে মহেশখালীও পাব বলে আশা করছি। চট্টগ্রাম–১১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। চট্টগ্রাম–৯ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নেই, সেখানেও আমরা ভালো ফলাফলের আশা করি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তুলনামূলক কম ভোট পাওয়ার পরও এবার আশাবাদী হওয়ার কারণ জানতে চাইলে বলেন, ২০১৮ সালে সকাল সাড়ে ১০ টায় প্রত্যাখান করেছি। রিটার্নিং অফিসারকে দেয়া সেই কাগজ এখনো আছে আমার কাছে। ওই নির্বাচনে আমাদের এজেন্ট ও ভোটারদের ঢুকতে দেয়নি। ওই নির্বাচনের ভোট তো কাউন্ট করা যাবে না। সাড়ে ১৫ বছরের কোনো ভোট তো কাউন্ট করা যাবে না। চট্টগ্রামে ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, আমাদের ওয়ার্ড কমিটি আছে। অনেক জায়গায় ইউনিট কমিটিও আছে।












