চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করা হয় ২০০৩ সালে। এরপর দুই দশকের বেশি সময় পার হয়েছে, কিন্তু সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী হয়ে উঠেনি চট্টগ্রাম। আর এটা নিয়ে নিজেদের ক্ষোভ এবং আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সত্যিকার অর্থে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত করতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির চট্টগ্রামের নেতারা।
গতকাল রোববার নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্যে বাণিজ্যিক রাজধানীর বিষয়ে কথা বলেন তারা। এছাড়া কালুরঘাট সেতু নির্মাণসহ চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম–৯ আসনের প্রার্থী আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম–১০ (হালিশহর–পাহাড়তলী) আসনের প্রার্থী সাঈদ আল নোমান ও সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এর মধ্যে সাইদ আল নোমান তিনটি দাবি তুলে ধরেন। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, বাণিজ্যিক রাজধানী হবেই হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বাণিজ্যিক রাজধানী হবে চট্টগ্রাম।
সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী এবং নগর সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
যা বললেন আবু সুফিয়ান : চট্টগ্রাম–৯ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেছেন, চট্টগ্রামকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়, চট্টগ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। তাই চট্টগ্রামকে শুধু বাণিজ্যিক রাজধানী নয়, দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সরকার সেই বাণিজ্যিক রাজধানীর সব কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেয়। ফলে চট্টগ্রাম আজ বঞ্চিত। চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে আমাদের দাবি, বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে চট্টগ্রামকে দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য কর্ণফুলী নদীকে দখলমুক্ত ও দূষণমুক্ত করতে হবে। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। ইতিহাসের সাক্ষী কালুরঘাট সেতুর নির্মাণ কাজ গত মে মাসে প্রধান উপদেষ্টা উদ্বোধন করলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এই সেতু শুধু দক্ষিণ চট্টগ্রামের দাবি নয়, এটি পুরো চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের দাবি। তিনি বলেন, কালুরঘাট সেতু নির্মাণ, যানজট নিরসনসহ সামগ্রিক উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে এগিয়ে নিতে হবে।
সাইদ আল নোমানের তিন দাবি : জনসভায় চট্টগ্রাম–১০ (হালিশহর–পাহাড়তলী) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমান তারেক রহমানের কাছে তিনটি দাবি তুলে ধরেন। এসব দাবিকে জনদাবি উল্লেখ করে বলেন, এসব বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম শহরের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা বহু গুণে এগিয়ে যাবে। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার ঘোষিত বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের মানুষ আর কোনো দিক থেকে পিছিয়ে থাকবে না।
তিনি বলেন, ২০১২ সালে আমরা এই মাঠে প্রমাণ করেছিলাম আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে কত ভালোবাসি। ১৯৮৭ সালের ৪ নভেম্বর মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে আপনাদের একজন আবদুল্লাহ আল নোমান আপসহীন নেত্রী উপাধি দেন। যিনি সৌভাগ্যক্রমে আমার পিতা। তিনি কিন্তু একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
সাইদ আল নোমান বলেন, আমি তার একজন সন্তান হিসেবে ও রাজনৈতিক শিষ্য হিসেবে বলতে চাই, আমাদের নেতা তারেক রহমানের কাছে চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে আমাদের তিনটি দাবি। এগুলো হলো, এক, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করা, অর্থাৎ উন্নয়নের মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা। ২০০৩ সালে ম্যাডাম বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করেছিলেন। দ্বিতীয় হলো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নামক দুটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। সে বিষয়ে তারেক রহমান প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাঁর পলিসি টিম কাজ করছে। তৃতীয় হলো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত অবস্থান থাকতে হবে। অতীতে যে–কোনো কারণে আমরা সেটি নিতে পারিনি। তিনি বলেন, আমরা বলব, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে কোনো দুঃখ আর এই চট্টগ্রামে থাকবে না। আজকে এখানে আসতে পেরেছি তারেক রহমানের কারণে। আমাদের নেতা তারেক রহমানকে আমরা বীরের বেশে পেয়েছি। আমি বিশ্বাস করি ১২ তারিখ আমরা আপনাকে সর্বোচ্চ, সর্বস্ব দিয়ে জয় নিয়ে আসব। ইনশাআল্লাহ সেটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য উদয় কুমার বড়ুয়া, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সুকোমল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম–৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া, চট্টগ্রাম–৭ আসনের প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী, নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম ও সদস্য সচিব শরীফুল ইসলাম তুহিন, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন বুলু ও সদস্য সচিব জমির উদ্দিন নাহিদ।
মঞ্চে উপিস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম–১৩ আসনের প্রার্থী সরোয়ার জামাল নিজাম, কঙবাজার–৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ শাহাজাহান চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এম নাজিম উদ্দীন, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, খাগড়াছড়ির প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া, কঙবাজারের প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ম্যামাসিং, বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জেরি প্রো চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নারী বিষয়ক সম্পাদক বেগম নুরে আরা সাফা, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ, চট্টগ্রাম–৩ আসনের প্রার্থী মোস্তফা কামাল, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দ্বীপন দেওয়ান তালুকদার, চট্টগ্রাম–১৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন, চট্টগ্রাম–১২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ এনামুল হক, চট্টগ্রাম–১৫ আসনের প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন, চট্টগ্রাম–১৬ আসনের প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা ও চট্টগ্রাম–১ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন।











