চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, সকল জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চউক, ওয়াসাসহ সকল সেবা সংস্থাকে সাথে নিয়ে একটি সমন্বিত, পরিকল্পিত, আধুনিক ও বৈশ্বিক মানসম্পন্ন ও উন্নত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা হবে। গতকাল শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) ভবনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পবিত্র খতমে কোরআন, আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম–৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম–৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম–১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এবং সিডিএর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন।
মীর হেলাল বলেন, চট্টগ্রামের বীর জনতা ক্ষমতার অপব্যবহার বা ভোগের জন্য আমাদের নির্বাচিত করেনি, বরং তাদের অধিকার ও সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতেই এই পবিত্র দায়িত্ব দিয়েছে। বিএনপির কেউ ডামি নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসে নাই। ১৭ বছর রাজপথে ছিলাম সরব উপস্থিতিতে, লুকিয়ে না। রাজপথে থেকে এই দেশে হামলা–মামলা, কারা নির্যাতন বরণ করেই জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে আজকে এমপি নির্বাচিত হয়েছি। জনগণ রায় দিয়েছে। পাঁচ বছর পরে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে আমরা সফল নাকি ব্যর্থ। টেনেহিঁচড়ে নামাই ফেলবেন? সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন আমরা সবাই দায়িত্বশীল পদে আছি। এর বেশি বলতে পারব না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের মতো দল ক্ষমতা যাওয়ার পর পাঁচ মিনিট টিকে নাই, পালিয়েছে। আর বিএনপি হচ্ছে সেই দল, শত অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে, কারো লুঙ্গির তলে না থেকে বিএনপি হিসেবে রাজপথে থেকে অধিকার আদায় করেছে। আমরা সবাই সেই কর্মী। আমরা কেউ নেতা না এখানে। জনাব তারেক রহমানের কর্মী। সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে চাই। সঙ্গে থাকুন, উন্নয়ন আপনাদের এলাকায়ও হবে। আপনাদের মাধ্যমেও হবে।
তিনি বলেন, হুমকি ধমকি দিয়েন না। এগুলো আমরা জানি কীভাবে মোকাবেলা করতে হয়। এটা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা হবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের শক্তি হচ্ছে এই দেশের জনগণ এবং দলের বিভিন্ন পর্যায়ের পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা।
তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজ লোকের অবস্থান বা স্থান শুধু সিডিএ নয়, চট্টগ্রামের কোনো প্রতিষ্ঠানে থাকতে দেব না। অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যারা বিভিন্ন দুর্নীতিতে জড়িত ছিল তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনব। এখানে কোনো ধরনের ছাড় হবে না। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে চউকসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে যে নজিরবিহীন অনিয়ম, হরিলুট ও দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম হয়েছিল, তার অবসান ঘটানো হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের পয়সার অপচয় এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির সংস্কৃতি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ চট্টগ্রামের প্রতিটি সরকারি দপ্তরে শতভাগ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সমাজের দীর্ঘদিনের বড় সমস্যা ওজন নির্ধারণী স্কেল সংক্রান্ত জটিলতার কথা উল্লেখ করে মীর হেলাল বলেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি দূর করতে আমরা অত্যন্ত আন্তরিক। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সাথে সমন্বয় করে এর একটি স্থায়ী ও যৌক্তিক সমাধান করা হবে। এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কার্যকর প্রস্তাবনা শীঘ্রই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সমীপে পেশ করা হবে।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়ার স্বপ্ন ছিল একটি আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ এবং বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী শক্তি আজ ঐক্যবদ্ধ। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু মঞ্চের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সুখ–দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে তাদের কল্যাণে কাজ করার মাধ্যমেই শহীদ জিয়ার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।
চউক জাতীয়তাবাদী দল সিবিএ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফয়েজ আহাম্মদ। সঞ্চালনা করেন মো. মফিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নাসির উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী।











