বিপিএলে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা দুই দলের লড়াইয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৫ উইকেটে হারায় রংপুর রাইডার্স। সিলেটে গতকাল সোমবার ২০ ওভারে চট্টগ্রাম তোলে ১৬৯ রান। টানা তৃতীয় ফিফটি করেন ওপেনার অ্যাডাম রসিংটন। রান তাড়ায় রংপুর ম্যাচ শেষ করে ৭ বল বাকি রেখে ৫ উইকেটে ১৭০ রান তুলে। ২৫ বলে ৫০ রান আসে মেয়ার্সের ব্যাট থেকে। আগের দুই ম্যাচের ম্যান অব দা ম্যাচ মাহমুদউল্লাহ এবার অপরাজিত থাকেন ১৯ বলে ৩০ রান করে। এই জয়ে চট্টগ্রামকে সরিয়ে শীর্ষে উঠে গেল রংপুর। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা চট্টগ্রাম ম্যাচ শুরু করে প্রথম ওভারে মোহাম্মদ নাঈম শেখের তিন বাউন্ডারিতে। দুটি ডেলিভারিতে বাউন্ডারি হজম করে পায়ে টান লাগায় মাঠ ছাড়েন কাইল মেয়ার্স। বদলি বোলার রকিবুল হাসান শুরু করেন প্রথম বলে চার খেয়ে। ওই তিন বাউন্ডারির পর আর কিছু করতে পারেননি নাঈম। মোস্তাফিজ চতুর্থ ওভারে আক্রমণে এসেই ফেরান থাকে। নিলামের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার টানা দুটি ফিফটির পর এবার থামলেন ১৬ রানে। আগের দুই ম্যাচে শতরানের বন্ধন করা উদ্বোধনী জুটি এ দিন থামে ২২ রানে। তিনে নেমে মাহমুদুল হাসান জয় ফেরেন তিনটি চার মেরেই। তবে অ্যাডাম রসিংটন আবার জমে যান। রকিবুলকে দুটি চার ও এক ছক্কা মারার পর ছুটতে থাকেন ইংলিশ ক্রিকেটার। সঙ্গী পান হাসান নাওয়াজকে। ডেজার্ট ভাইপার্সের হয়ে আইএল টি–টোয়েন্টিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিপিএল খেলতে আসা পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান ক্রিজে যাওয়ার পরপরই ছক্কা মারেন রকিবুল ও খুশদিলকে। রসিংটনের ফিফটি আসে ৩৩ বলে। এরপর একটু কমে যায় তার গতি। শেষ পর্যন্ত রকিবুলের বলে বোল্ড হন ৪১ বলে ৫৮ রান করে। জুটিতে আসে ৬১ বলে ৮২ রান। বিপিএল অভিষেকে ফিফটির কাছে গিয়ে আউট হন নাওয়াজ। দুটি চার ও তিনটি ছক্কায় ৪৬ করেন তিনি ৩৮ বলে। শেষ দিকের দাবি মেটাতে পারেননি আসিফ আলি (১)। আরেক পাকিস্তানি আমির জামালের ১০ বলে ১৯ ও শেখ মেহেদি হাসান ৭ বলে ১৩ রানে ১৭০ রানের লক্ষ্য দিতে পারে তারা। রংপুরের রান তাড়া শুরু হয় শরিফুল ইসলামের প্রথম ওভারে ১৫ রান নিয়ে। লিটন দাসকে ফিরিয়ে চট্টগ্রামকে প্রথম উইকেট এনে দেন বাঁহাতি এই পেসারই। ৮ রানে জীবন পাওয়া লিটন ১০ রান করে টি–টোয়েন্টিতে ৬ হাজার রান ছুঁয়েই বিদায় নেন। একটি টাওয়ারের ফ্লাড লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খেলা কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে তৃতীয় ওভারের পর। খেলা শুরু হতেই শুরু হয় মেয়ার্সের তাণ্ডব। শেখ মেহেদির ওভারে দুই চার এক ছক্কা, আবু হায়দারের ওভারে এক চার তিন ছক্কায় পৌঁছে যান তিনি ফিফটির কাছে। পরে আমির জামালকে দুটি চার মেরে পঞ্চাশে পা রাখেন ২৫ বলে। এক বল পরই শেষ হয় তার ইনিংস। দাভিদ মালানের সঙ্গে তার জুটিতে ২৭ বলে আসে ৬১ রান। ক্রিজে যাওয়ার পরপর শেখ মেহেদির এক ওভারে তিনটি চার মারলেও মালান পরে হাত খুলতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বিদায় নেন ৩০ বলে ৩০ করে। মেয়ার্স আউট হওয়ার সময় রংপুরের রান রেট ছিল প্রায় ১২। মালানের বিদায়ের সময় রান রেট নেমে আসে সাড়ে আটের নিচে। জয়ের জন্য প্রয়োজন তখন ওভারপ্রতি প্রায় ৯ রান। পরে সমীকরণ হয়ে ওঠে আরেকটু কঠিন। শেষ চার ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৪১ রানের। তবে জামালের এক ওভারে দুর্দান্ত সব শটে মাহমুদউল্লাহর তিন চার ও এক ছক্কায় ম্যাচের ফয়সালা একরকম হয়েই যায়। উত্তেজনার যা একটু বাকি ছিল, তা পরের ওভারেই শেষ করে দেন খুশদিল। শরিফুলকে মারেন দুটি চার ও একটি ছক্কা। আরেকটি ছক্কার চেষ্টায় ওই ওভারের শেষ বলে আউট হন খুশদিল (১২ বলে ২২)। তবে রংপুরের জয় তখন কেবল সময়ের ব্যাপার।











