প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় চট্টগ্রামকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়তে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে ক্লিন, গ্রীন, হেলদি ও সেইফ সিটির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসন ও নগরীর যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন মেয়র।
রবিবার (২২ মার্চ) বিকেলে নগরীর লাভ লেইনস্থ স্বরণিকা কমিউনিটি সেন্টারে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীর সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রায় আট হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের জন্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের আয়োজন করেন মেয়র। ফিন্নি, পোলাওসহ নানা মুখরোচক খাবারের মাধ্যমে মেয়রের আতিথেয়তা গ্রহণ করেন অতিথিরা।
এছাড়া তিনি শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন জাতীয় মসজিদ জমিয়াতুল ফালাহতে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নাগরিকদের সাথে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। এরপর নগরীর চকবাজারের কিশলয় কমিউনিটি সেন্টারে নগরবাসীর সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হওয়ার পর থেকে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে আমি বাজারে বাজারে গিয়ে মনিটরিং করেছি। এই শহরের নিরাপত্তার জন্য আমি কাজ করেছি। শুধু নালা, নর্দমা, খাল বিল পরিষ্কার নয় আমাদের এই শহরকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিতে হবে।
তিনি বলেন, গত পাঁচই আগস্টের পর থেকে আপনারা দেখেছেন আমরা মঠ মন্দিরে পাহারা দিয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় পাহারা দিয়েছে। চট্টগ্রামবাসী যাতে নিরাপদে নির্ভিঘ্নে চলতে পারে সে ব্যাপারে আমি সজাগ আছি। কোন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাস্তানি চলবে না এই শহরে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি। আমরা এই শহরকে একটা নিরাপদ শহরে পরিণত করতে চাই।
মেয়র বলেন, ক্ষমতা থাকলেই তা দেখানোর নাম রাজনীতি নয়। দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিঃস্বার্থ কাজ করাই বিএনপির রাজনীতির মূলমন্ত্র। কুকর্ম করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের কবর রচিত হয়েছে। বিএনপির নাম ব্যবহার করে কুকর্মকারীদের স্থান বিএনপিতে হবে না। রাজনীতিতে এখন বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনীতিতে এখন বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ‘বটমলেস বাস্কেট’ থেকে উঠে এসে কৃষি, গার্মেন্টস ও রেমিটেন্স খাতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানেও রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি, কৃষি ও গার্মেন্টস খাতের উন্নয়ন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নতুন খাত হিসেবে পর্যটন শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর চিপস এবং ফার্মাসিউটিক্যালস খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে। এসব খাতে বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন মেয়র।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশপ্রেম যেমন ঈমানের অংশ, তেমনি শহরপ্রেমও ঈমানের অংশ। তিনি সবাইকে যত্রতত্র ময়লা, প্লাস্টিক ও পলিথিন না ফেলার অনুরোধ জানান এবং চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে গত ১৬ মাসে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে খাল সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ৫৭টি খালের মধ্যে অধিকাংশ খালের সংস্কার কাজ চলমান এবং পর্যায়ক্রমে সব খাল পুনরুদ্ধার করা হবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রকল্প গ্রহণের পথে এগিয়ে গেছে। বাস্তবায়িত হলে এ প্রকল্প চট্টগ্রামের জলবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করবে।
কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে খেলাধুলার প্রসারে গুরুত্ব দিয়ে মেয়র জানান, ৪১টি খেলার মাঠের মধ্যে ইতোমধ্যে ১১টি উন্নয়ন করা হয়েছে এবং বাকি মাঠগুলোও দ্রুত সংস্কার করা হবে।
এছাড়া জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা, টাইফয়েড ভ্যাকসিন প্রদান, এবং ব্রেস্ট, কোলোরেক্টাল ও লিভার ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান মেয়র।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা, দেশপ্রেম ও সততার মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যরিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, জাতীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, সাঈদ আল নোমান, জসিম উদ্দিন আহমেদ, বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মুনিরুজ্জামান, কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব ইদ্রিস মিয়া, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহনওয়াজ, সন্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, চমেক ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, জেলা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ মানিক, চমেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. তসলিম উদ্দিন, সিএমপির ডিসি সাউথ হোসাইন মো. কবির ভূইয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন, চসিক সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, সাতকানিয়া আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন, জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এড. ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, আলহাজ্ব এম এ আজিজ, অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, সফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এস কে খোদা তোতন, আবদুল মান্নান, উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, মহানগর বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট মফিজুল হক ভূঁইয়া, ইকবাল চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন জিয়া, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, এস. এম আবুল ফয়েজ, আবুল হাসেম, ইসকান্দর মির্জা, মুজিবুল হক, মো. মহসিন, খোরশেদুল আলম, মো. সালাউদ্দিন, গাজী সিরাজ উল্লাহ, সৈয়দ শিহাব উদ্দীন আলম, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, মশিউল আলম স্বপন, গাজী আইয়ুব, আবু মুসা, হানিফ সওদাগর, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. এনামুল হক, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এড. হাসান আলী চৌধুরী, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক বেলায়েত হোসেন বুলু, সদস্য সচিব জমির উদ্দিন নাহিদ, ছাত্রদলের আহবায়ক সাইফুল আলম, মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, জাসাসের আহবায়ক এম এ মুছা বাবলু, সদস্য সচিব মামুনুর রশীদ শিপন, তাতীদলের আহবায়ক সেলিম হাফেজ ও সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মুরাদ।












