চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে ‘ফিউচার অব স্পোর্টস ইন চট্টগ্রাম’ শীর্ষক আলোচনা সভা গতকাল রোববার বিকালে চট্টগ্রামের শহীদ ফজলুর রহমান অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন রাজনীতিবিদ, ক্রীড়া পৃষ্ঠপোষক ও ক্রীড়ানুরাগী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর ইসরাফিল খসরু চট্টগ্রামের ক্রীড়া উন্নয়নের পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।
ক্রীড়া সংগঠক সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীরের উপস্থাপনায় আলোচনা সভায় ক্রীড়া সংগঠকদের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কমান্ডার মো. শাহাব উদ্দিন আহামদ চৌধুরী এবং ক্রীড়া সংগঠক মো. হাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য বক্তারা ক্রীড়ার উন্নয়নে বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মুজিবুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্সের উপ–পরিচালক মো. শোয়েব, শিক্ষার্থী রহমতুল ইসলাম সোহেল এবং জাতীয় সাঁতারু নুজহাত জাহানসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা চট্টগ্রামের ক্রীড়া অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, খেলোয়াড় তৈরির অনুকূল পরিবেশের ঘাটতি এবং জাতীয় পর্যায়ে চট্টগ্রামের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার বিষয় তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারা ক্রীড়া উন্নয়নের সম্ভাবনাময় দিকগুলো তুলে ধরে দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
প্রধান আলোচক আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বক্তাদের বক্তব্য শুনে বলেন, চট্টগ্রামের ক্রীড়া উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরির জন্য আধুনিক অবকাঠামো, মানসম্মত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, ক্রীড়াকে দেশের যুবসমাজকে গড়ে তোলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে চট্টগ্রামে খেলাধুলার পরিবেশ উন্নয়ন, মাঠ ও প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সঠিক পরিচর্যার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল ক্রীড়া সংগঠন, প্রশাসন এবং খেলোয়াড়দের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি তামিম ইকবাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, এক সময় চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল এবং এখান থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসংখ্য খেলোয়াড় উঠে এসেছে। কিন্তু সময়ের সাথে বিভিন্ন কারণে সেই ধারাবাহিকতা কিছুটা কমে গেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ক্রীড়া সংগঠন, কোচ, খেলোয়াড় এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করে বলেন, কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করা সম্ভব। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, খেলোয়াড়, কোচ এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












