চকরিয়ায় যুবলীগ কর্মীকে ধরতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পুলিশের এএসআইয়ের মৃত্যু

চকরিয়া প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ২৪ মার্চ, ২০২৬ at ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় জুনাইদ নামের পরোয়ানাভুক্ত আসামী যুবলীগ কর্মীকে ধরতে গিয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ (স্ট্রোক) হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন পুলিশ সদস্য (এএসআই) রূপন কান্তি দে (৪২)। এ সময় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বরইতলী মা-শিশু হাসপাতালে ও পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যা পৌণে ছয়টার দিকে হারবাং ইউনিয়নের হারবাং স্টেশন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে মোফাজ্জল হোসেন নামের আরেকজন পুলিশ সদস্য (এসআই) মানসিকভাবে আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। তারা চকরিয়া থানার নিয়ন্ত্রণাধীণ হারবাং পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত রয়েছেন।

হারবাং স্টেশন এলাকার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন- কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা জুনাইদ নামের স্থানীয় যুবলীগ কর্মী হারবাং স্টেশন এলাকায় অবস্থান করছেন।

এই খবর পেয়ে তাকে ধরতে যান এসআই মোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে এএসআই রূপন কান্তি দেসহ একদল পুলিশ। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে জুনাইদকে ঝাপটে ধরেন এসআই মোফাজ্জল। তখন এএসআই রূপন ধৃত জুনাইদের প্যান্টের বেল্ট ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন।

অপরদিকে এসআই মোফাজ্জল পিটুনি দিতে থাকেন ধৃত জুনাইদকে। এই অবস্থায় জুনাইদের প্যান্টের বেল্ট ছেড়ে দিয়ে মুহুর্তের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এএসআই রূপন। এর পর রূপনকে নিয়ে পুলিশের অন্য সদস্যরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লে ধৃত জুনাইদ পালিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন।

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রধান ডা. জায়নুল আবেদীন জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তানিয়ার বরাত দিয়ে জানান-সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে মৃত অবস্থায় পুলিশ সদস্য রূপনকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। এ সময় তাঁর (রূপন) সর্বশরীরে অনুসন্ধান করে কোন জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। হয়তো ময়নাতদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে সঠিক কী কারণে রূপন মারা গেছে।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন দাবি করেন- কোন পরোয়ানাভুক্ত আসামি ধরতে যায়নি পুলিশ। হারবাং স্টেশনের একটি দোকানে অবস্থান করাকালীন মূলত অজ্ঞান হয়ে মারা গেছেন হারবাং ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই রূপন কান্তি দে। তবে আগে থেকেই রূপন হার্টে আক্রান্ত রোগী ছিলেন এবং ইতোপূর্বে দুইবার স্ট্রোক করায় তার হার্টে রিংও পরানো হয়েছিল।

আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত এবং হার্টে রিং পরানোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নিকটাত্মীয় রাঙামাটির কাপ্তাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ঝুলন দত্ত।

তিঁনি জানান- মারা যাওয়া পুলিশের এএসআই রূপন কান্তি দে সম্পর্কে আমার মামা। তিঁনি অল্প বয়স থেকেই হার্টে আক্রান্ত রোগী ছিলেন এবং ইতোপূর্বে দুইবার স্ট্রোক করলে পরেরবার হার্টে রিং পরানো হয়েছিল। আজও তৃতীয়দফায় স্ট্রোক করে মারা গেলেন। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মারা যাওয়া এএসআই রূপন কান্তি দে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কদমতলী গ্রামের বাসিন্দা মৃত হরিপদ দে’র পুত্র।

পূর্ববর্তী নিবন্ধটেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত দিয়ে আবারও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ