কক্সবাজারের চকরিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তামাক ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মোহাম্মদ মুজিব (৪০) নামে এক মাংস বিক্রেতার লাশ। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
গত শনিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার চিরিঙ্গা–কাকারা সড়কের কাকারা ইউনিয়নের হযরত শাহ ওমর মাজারের পশ্চিমে সেবাখোলা সংলগ্ন তামাক ক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত মুজিব কাকারা ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের কসাই পাড়ার মৃত ফকির মোহাম্মদের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে মাংস বিক্রি করতেন। এই ঘটনায় পরিবারের দাবি অনুযায়ী প্রধান সন্দেহভাজন মোহাম্মদ আরিফ (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় মুজিবের শরীরের কোথাও রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে গলায় একটু ফুলা জখম শনাক্ত হয়েছে। তাই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে কীভাবে মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই আবদুল মালেক জানান, শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে একই এলাকার মোহাম্মদ জহিরের ছেলে আরিফ তাদের বাড়িতে আসেন। এ সময় তার বড় ভাই মুজিবকে ডেকে নিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর মুজিবের মোবাইলে কল দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
আবদুল মালেকের দাবি–রাত এগারটার দিকে শাহ ওমর মাজারের পশ্চিম পাশের তামাক ক্ষেতে হাত–পা বাঁধা ও মুখে স্কচটেপ লাগানো অবস্থায় মুজিবকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুজিবের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা বলেন, নিহত মুজিব ও একই এলাকার আরিফদের সঙ্গে জমি নিয়ে পূর্ব শত্রুতা ছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময় মারামারির ঘটনাও ঘটে। থানা ও আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। সেই পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়েছে।
চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এরপর প্রধান সন্দেহভাজন আরিফকে আটক করে ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপরদিকে লাশ হেফাজতে নিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে থানায় মামলা রুজু করাসহ পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।








