দেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজারে চারটি আসনেই উৎসবমূখর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। চার আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের আট প্রার্থীর মধ্যে তীব্র ভোটযুদ্ধ হয়েছে। তবে নানা বিচ্ছিন্ন ঘটনাও ঘটেছে। এর মধ্যে বড় অঘটন না ঘটলেও চার আসনেই বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। চকরিয়ায় জামায়াত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুকের গাড়ি বহরের উপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় বিএনপির লোকজনের হামলায় তিন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এছাড়া ভোট চলাকালে জালভোট প্রদান, ভোটদানে বাধা, হুমকিসহ নানা অভিযোগ করেছেন জামায়াত প্রার্থীরা।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের চারটি আসনে ১৮ জন প্রার্থী ছিলেন। তার মধ্যে চার আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছেন কঙবাজার–১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী সালাহউদ্দীন আহমদ ও জামায়াতের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক, কঙবাজার–২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী আলমগীর ফরিদ ও জামায়াতের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, কঙবাজার–৩ (সদর–রামু–ঈদগাঁও) আসনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল ও জামায়াতের প্রার্থী শহীদুল আলম বাহাদুর এবং কঙবাজার–৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনের বিএনপির প্রার্থী সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী ও জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা সব উপজেলায় ভোট দিতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে সকাল থেকে নারী–পুরুষ লাইন ধরে অবস্থান করেন। উৎসবমূখর পরিবেশ সবাই হাসি–খুশি ভাবে ভোট প্রদান করেছেন। পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবিসহ অন্যান্য আইন–শৃঙ্খলাবাহিনী থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী বিধি মতে সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ভোটগ্রহণ করতে কঠোর অবস্থানে থাকে আইন–শৃঙ্খলা বাহিনী। তারপরও কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুকের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় চকরিয়ার কর্মরত সাংবাদিক কফিল উদ্দীন, রুহুল কাদের ও বশির আল মামুন রক্তাক্ত আহত হন।
এ ব্যাপারে আবদুল্লাহ আল ফারুক এক ব্রিফিংয়ে অভিযোগ করেন, অনিয়ম ও ভোট প্রদানের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় বিএনপির একদল নেতাকর্মী তার বহরে হামলা করেন। আরেকটি বড় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে কঙবাজার–৩ আসনের রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকা একটি কেন্দ্রে। সেখানে জামায়াতের সমর্থকদের ভোট প্রদানে বাধা দিলে জামায়াত প্রার্থী শহীদুল আলম বাহাদুরের সাথে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে হাতাহাতি ও কথা কাটাকাটি হয়। উখিয়ার হলদিয়া পালংয়ের রুমখাঁ পালং কেন্দ্রে বিএনপি–জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। টেকনাফেও একটি হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এছাড়াও জেলার অন্যান্য এলাকায় ক্ষুদ্র আকারের এমন ঘটনা ঘটার খবর পাওয়া গেছে। ভোট কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করায় রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছৈয়দ আলমকে আটক করে সেনাবাহিনী ও সদরের চৌফলদন্ডীতেও একজন আটক করা হয়। এছাড়া জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে টেকনাফে এক যুবকসহ একাধিক জনকে আটক করা হয়।
অন্যদিকে চারটি আসনেই ভোট দিতে না পারার বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। পেকুয়ার মোস্তফা বেগম এক নারী জানান, তিনি ভোট দিতে গিয়ে দেখেন তার ভোট দিয়ে দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানেও এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সার্বিক প্রসঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান রাত ৮টার দিকে গণমাধ্যমকে বলেন, শতভাগ সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ করতে আইন–শৃঙ্খলবাহিনী বদ্ধপরিকর ছিল। কোথাও কোনো রকম ছাড় দেয়া হয়নি। অপকর্ম ও ঝামেলা করতে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় সুযোগ দেয়া হয়নি। যারা করতে চেষ্টা করেছে, তাদের আটকসহ শাস্তি দেয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রাপ্তি অনুসারে ঘোষণা করার প্রক্রিয়া চলছে। পূর্ণাঙ্গ ফলাফল জানাতে সময় লাগবে।












