চকরিয়ায় চিংড়িঘের দখলে নিতে সশস্ত্র ডাকাত–সন্ত্রাসীরা বেধড়ক পেটানোর পর ঘেরের পাশের খালের পানিতে চুবিয়ে শ্বাসরোধে ঘের মালিককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে পুলিশ গতকাল শুক্রবার ভোররাতে চিংড়িঘের এলাকা থেকে নিহতের লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কঙবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এর আগে ভোররাত আড়াইটার দিকে উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাটের বড় ডুমখালী ঘোনা নামক চিংড়ি ঘেরে হানা দিয়ে সশস্ত্র ডাকাত–সন্ত্রাসীরা ঘের মালিককে তুলে পাশের খালে নিয়ে যায়। সেখানে বেধড়ক পিটিয়ে এবং পানিতে চুবিয়ে শ্বাসরোধে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়। নিহত ঘের মালিকের নাম মনজুর আলম প্রকাশ কালু (৫০)। তিনি ডুমখালী এলাকার মৃত জাফর আলমের ছেলে।
নিহতের ভাই জামাল হোসাইন অভিযোগ করেছেন– ডুলাহাজারা ইউনিয়নের চিংড়ি জোনের বড় ডুমখালী ঘোনায় তাদের মালিকানাধীন চার একরের একটি চিংড়ি ঘের রয়েছে। সেই চিংড়ি ঘের দখলে নিতে আলোচিত ডাকাত–সন্ত্রাসী রমজান আলীর নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে অতি সম্প্রতি ঘেরে হানা দেয়। এ সময় ঘের থেকে লুট করা হয় উৎপাদিত চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, ঘেরের মূল্যবান মালামালও। এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থাই নেয়নি। এই অবস্থায় রমজান আলীর নেতৃত্বে সশস্ত্র ডাকাত–সন্ত্রাসীদল আরও বেপরোয়া হয়ে পুরো ঘের দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে শুক্রবার ভোররাত আড়াইটার দিকে ফের হানা দেয়।
এ সময় ঘেরের খামার বাড়িতে অবস্থানরত বড় ভাই মনজুর আলম প্রকাশ কালুকে ধাওয়া দিয়ে ধরে পাশের খালে নিয়ে যায়। সেখানে বেধড়ক পিটুনি দেওয়ার পর পানিতে চুবিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন দৈনিক আজাদীকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘেরের কাছের খালের পাড় থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ সময় মরদেহের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। লাশ উদ্ধারের পর নিয়মানুযায়ী ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












