অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’ আঘাত হেনেছে ভারতের গুজরাট উপকূলে। এসময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ১১৫–১২০ কিলোমিটার। প্রবল বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় গুজরাটের মরবি জেলায় ৩০০ টিরও বেশি বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল জেলার প্রায় ৪৫টি গ্রাম। খবর বাংলানিউজের।
পশ্চিম গুজরাট ভিজ কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিভিসিএল) কর্মকর্তারা বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত নয়টি গ্রামে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পিজিভিসিএল–এর নির্বাহী প্রকৌশলী (মোরবি) জেসি গোস্বামী এএনআইকে জানিয়েছেন, শক্তিশালী বাতাস বৈদ্যুতিক তার এবং খুঁটি ভেঙে ফেলেছে। মালিয়া তহসিলের ৪৫টি গ্রামে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছিল। আমরা ৯টি গ্রামে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার করছি। বাকি গ্রামে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। রাজ্যের কর্মকর্তাদের মতে, গুজরাটের বিভিন্ন স্থানে ৫২৪টিরও বেশি গাছ এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। একইসঙ্গে বিপর্যয়ের আঘাতের পর প্রায় ৯৪০ গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। তবে রাজ্যটিতে এখন পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তাদের মতে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মরবির মালিয়া তালুকায় দুটি পাওয়ার স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। উপকূলীয় এবং মরুভূমি অঞ্চলে ৩০০টিরও বেশি বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুজরাটের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’–এর আঘাতে বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং গাছ উপড়ে পড়ে কমপক্ষে ২২ জন আহত হয়েছিলেন। এদিকে, গুজরাটের ত্রাণ কমিশনার অলোক পান্ডে বলেছেন, আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। গুজরাট জুড়ে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কাও রয়েছে।
ঝড়ের নজর বর্তমানে পাকিস্তান–কুচ সীমান্তের দিকে। তবে আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি আগামীকাল দক্ষিণ রাজস্থানে পৌঁছাবে। এদিকে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) শুক্রবার ভোরে বলেছে, ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’ শুক্রবার সকালের মধ্যে আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। এটি সন্ধ্যার মধ্যে উপকূল ত্যাগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে আরব সাগরজুড়ে শক্তি সঞ্চয় করার পরে ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুজরাটের জাখাউ বন্দরের কাছে ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটার থেকে ১৪০ কিলোমিটার বাতাসের গতিবেগ নিয়ে আছড়ে পড়ে। তবে এর কয়েক ঘণ্টা পরে শক্তি হারাতে শুরু করে ঘূর্ণিঝড়টি।











