বরিশাল শের–ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক শিশুকে ঘাড়ের সমস্যা নিয়ে তার বাবা–মা ভর্তি করেছিলেন; চিকিৎসক সেই শিশুটির হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার করেছেন। গত শনিবার রাতে নগরীর লুৎফর রহমান সড়কের বাসিন্দা মো. শাহজালালের ছেলে মো. রায়হানের (৬) অস্ত্রোপচার হয়। গতকাল সোমবার সরকারি হাসপাতাল থেকে শিশুটির ছাড়পত্র দিলে বাইরে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন বাবা–মা। শাহজালাল একজন দরিদ্র দিনমজুর। তিনি ছোট্ট একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। খবর বিডিনিউজের।
শিশুটির মা সুমি আক্তার বলেন, জন্মের সময় রায়হান ঘাড়ে আঘাত পায়। তার ঘাড়ের বাম পাশের একটি জায়গায় মাংস বেড়েছে। তাই রায়হান একটু ঘাড় বাঁকা করে হাঁটে। এ কারণে ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান শাহজালাল ও সুমি। চিকিৎসক রায়হানকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। শনিবার শিশুটির অস্ত্রোপচার হয়। তারপর তাকে পোস্ট অপারেটিভ বিভাগে নিয়ে রাখা হয়। চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে বাবা–মা যখন ছেলেকে দেখতে যান তখন দেখতে পারেন, তার ঘাড়ে নয়, তলপেটে কাটা দাগ রয়েছে। শিশুটির মা সুমি বেগম বলেন, ‘আমি চিকিৎসকের কাছে জানতে চাইলে, তারা বলেন, আমার ছেলের হার্নিয়ার অপারেশন হয়েছে। অথচ চিকিৎসকের সঙ্গে ছেলের হার্নিয়ার বিষয়ে কোনো কথাই হয়নি। আর তারা আমাদের না জানিয়ে তলপেটে অপারেশন করে ফেলল!’ চিকিৎসক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘শিশুটির হার্নিয়া অপারেশন হয়েছে। আমি কিছু ওষুধ লিখে দিয়েছি। কী অস্ত্রোপচারের কথা বলে শিশুটিকে ভর্তি করা হয়েছিল সেই বিষয়টি আমি জানি না।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল শের–ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘একটি অস্ত্রোপচারের কথা বলে আরেকটি কিভাবে করবে? এটা কাগজপত্র না দেখলে বুঝব না।’
এ বিষয়ে হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটির দুটি সমস্যা। ওটিতে নেওয়ার পর যখন তাকে অজ্ঞান করা হয় তখন হার্নিয়ার সমস্যা প্রকট দেখা দেয়। তখন সার্জন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার করেছে। সার্জন হয়তো পরিবারের সঙ্গে ঠিকমতো কাউন্সেলিং করতে পারেননি। তাই ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।’ তবে শিশুটির বাবা শাহজালাল ও মা সুমি বেগম দুজনই বলেছেন, ছেলেকে ওটিতে নেওয়ার পর কোনো চিকিৎসক তাদের সঙ্গে এই ব্যাপারে কোনো কথাই বলেননি। অপারেশন শেষে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে আনার পর তারা বিষয়টি জানতে পারেন।












