ঘরে প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ, দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

পটিয়া প্রতিনিধি | শনিবার , ৩০ আগস্ট, ২০২৫ at ৬:০১ পূর্বাহ্ণ

পটিয়ায় সাদিয়া আক্তার (২২) নামে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের শ্বশুর বাড়ির লোকজন তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বললেও, সাদিয়ার বাবার বাড়ির লোকজন তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি জানান। গতকাল ২৯ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে পটিয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের এরফান আলী মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাদিয়াকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন পটিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। ঘটনার পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় এবং শ্বশুরশাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চন্দনাইশের কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা সাদিয়া আক্তারের সাথে পটিয়া পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের এরফান আলী মাস্টারের বাড়ির আবদুল আজিজের ছেলে কায়ছার তানভীর অমির পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। নিহতের স্বামী অমি সৌদি প্রবাসী। তাদের তৈয়বা তানবীর সাবিরা নামে ১১ মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বর্তমানে স্বামী কায়ছার তানভীর প্রবাসে রয়েছেন।

নিহত সাদিয়া আক্তারের চাচাত ভাই মো. আবুল হোসেন জানান, তাদের বিয়ে হয়েছে তিন বছর পূর্বে। স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর থেকে আর দেশে আসেননি। স্বামী বিদেশে থাকলেও তাদের পরিবারে আর্থিক টানাপোড়েন ছিল। যার কারণে শ্বশুরশাশুড়ি আমার চাচাত বোন সাদিয়ার সাথে প্রায় সময় দেনা নিয়ে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হতেন। যার ফলে তাদের পরিবারের মধ্যে প্রায় সময় অশান্তি বিরাজ করতো।

নিহত সাদিয়ার মা সুফিয়া বেগম বলেন, আমার মেয়ে রাতেও আমার সাথে স্বাভাবিক কথাবার্তা বলেছে। প্রতিদিন সকালে আমাকে ফোন করে চা নাস্তা খেয়েছি কিনা জেনে নিত। কিন্তু গতকাল শুক্রবার আমার মেয়ে সকালে ফোন করেনি। শাশুড়ি ফোন করে আমার মেয়ে সাদিয়া অসুস্থ জানিয়ে হাসপাতালে আসতে বলেন। তিনি কান্না করতে করতে বলেন, আমার মেয়েকে তারা মেরে ফেলেছে।

নিহতের শ্বশুর আবদুল আজিজ জানান, দুপুরে জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফিরে এসে জানতে পারেন তার পুত্রবধূ দরজা বন্ধ করে রুম থেকে বের হচ্ছেন না। ভেতরে নাতনি কান্না করছিলো। পরে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে সাদিয়াকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একটি সূত্র জানায়, সাদিয়ার ১১ মাস বয়সী শিশুকে সে মারলে তার শাশুড়ি বকাঝকা করায় অভিমান করে সে আত্মহত্যা করেছে।

এ বিষয়ে পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে এ ঘটনায় শ্বশুরশাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএনসিটিতে একদিনে সর্বোচ্চ কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড
পরবর্তী নিবন্ধচসিকের সীমানা বাড়ানো দরকার