গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বেচতে পারবে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র

বিদ্যুতের সব কাজ দরপত্রে, সরকারি জমিতে সোলার প্যানেল : জ্বালানি উপদেষ্টা

| রবিবার , ১ ডিসেম্বর, ২০২৪ at ১০:১০ পূর্বাহ্ণ

বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র সরাসরি গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করবেএমন একটি বিধান করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। চাইলে সরকারও এসব কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে পারবে। গতকাল শনিবার অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টাস ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘র‌্যাপিড ট্রান্সিজশন টু রিনিউয়্যাবলস : রোল অব ডমেস্টিক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। খবর বিডিনিউজের।

উপদেষ্টা জানান, এই পরিকল্পনা থেকেই বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে থেকে সরকারের বিদ্যুৎ কেনা সংক্রান্ত ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার বা আইপিপি নীতিমালা বাতিল করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এখন বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে শুধু সরকার বিদ্যুৎ কিনবে না। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিজেই গ্রাহক খুঁজে বের করবে। আমরা সঞ্চালন লাইন ব্যবহারের সুযোগ দেব ভাড়ার বিনিময়ে। বিদুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে আন্তঃসংযোগ ও শিল্প এলাকায় সঞ্চালন লাইনও প্রয়োজনে সরকার নির্মাণ করে দেবে জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য আইপিপি নীতিমালা বাদ দিয়ে মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসির (এমপিসি) খসড়া তৈরি করা হয়েছে। খুব শিগগির তা প্রকাশ করা হবে। বিদ্যুতের সব কাজ দরপত্রে : সরকার প্রতিযোগিতাপূর্ণ পদ্ধতিতে সব সেবা ও পণ্য কিনতে চায় জানিয়ে ফাওজুল বলেন, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে টেন্ডার দেওয়া হবে। যাদের সক্ষমতা থাকবে তারাই অংশ নেবেন। উপযুক্ত হলে কাজ পাবেন। সরকারি টেন্ডার পেতে কোনো মন্ত্রী, তাদের আত্মীয়, সচিব, আমলা, সরকারি অফিসারদের চেনা লাগবে না। সরকারকে জনগণের কাছে নিয়ে যেতে চাই।’

২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের করা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন নিয়েও কথা বলেন উপদেষ্টা। আইনটি দুর্নীতি করার জন্য তৈরি হয়েছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই আইনে সরাসরি যাকে খুশি তাকেই সরকারি কাজ দেওয়া যায়। এভাবেই দুর্নীতি হয়েছে। আইনটিতে বিদ্যুৎখাতের ব্যবসায়ী ও মন্ত্রী ও আমলাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

উচ্চ আদালত এই আইনের দুটি ধারা অবৈধ ঘোষণার পর আইনটি অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এখন সরকারি সব সেবা ও পণ্য উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে হবে। বিশেষ সুবিধা দেওয়ার আইন বাতিল হওয়ায় বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি আইন, ২০২৩ অনুযায়ী সরকারি সব দরপত্র পরিচালিত হবে।

সরকারি জমিতে সোলার প্যানেল : নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন সম্প্রসারণে সরকারি জমি দেওয়ার কথাও বলেন জ্বালানি উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ করে রেলওয়ের প্রচুর জমি রয়েছে। শত শত বিঘা জমি পড়ে আছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে জমি দেওয়া হয়েছে। সেসব জমি নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহার করা যাবে।

বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের হিসাবে পোশাক খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি লাগবে আড়াই থেকে সাত হাজার মেগাওয়াট। এজন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি ছাড়া গত্যন্তর নেই বলেও মনে করেন ফাওজুল। বিশাল এই সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলোকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্পত্তির বিপরীতে জমানাত রেখে এ খাতে ঋণ দিলে ব্যাংকগুলো মুনাফা নিশ্চিত করতে পারবে ঋণও আদায় হবে।

তৈরি পোশাক খাতের ক্রেতারাও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দিচ্ছে বলে জানান উপদেষ্টা বলেন, দেশের তৈরি পোশাক খাতের বড় ক্রেতাদের একটি এইচএনএম জানিয়েছে আগামীতে শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত বিদ্যুতের অন্তত ১৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আসতে হবে। শিল্প স্থাপনেও সরকারি জমি প্রস্তুত করে দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, যাতে উদ্যোক্তারা এসেই প্লাগ অ্যান্ড প্লে পদ্ধতিতে কারখানা চালু করতে পারেন।

খেলাপি ঋণ নিয়েও কথা বলেন জ্বালানি উপদেষ্টা। বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলেও বেঙ্মিকো, এস আলম গ্রুপের হিসাবে টাকা নেই। সব ফাঁকা, সব সংখ্যা মাত্র। ব্যাংকগুলো ব্যালেন্সশিট নির্ভর ঋণ দিয়েছে বেশি। তাও দিয়েছে মুখ চিনে। এ কারণে এখন খেলাপি ঋণ প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা হয়েছে। সম্পত্তি জামানত নির্ভর ছিল না এসব ঋণ।

সেমিনারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ব্যাংকের অর্থায়ন যৎসামান্য। এখানে বিনিয়োগের সুযোগ আছে। বড় ধরনের ঋণের ব্যবস্থা করা যায় সিন্ডিকেট ঋণের মাধ্যমে। এখাতে বিনিয়োগ করে আসছে এমন ১৮টি বিদেশি অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও সরকার ও ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা নিতে পারেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ‘ধর্মের ভাই’ ডেকে অপহরণ, পরে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১
পরবর্তী নিবন্ধসরকারি স্কুলে ৬ গুণ আবেদন, বেসরকারিতে ৬৭ শতাংশই ফাঁকা