গ্রামে উৎসবের আমেজ

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:২০ পূর্বাহ্ণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে গতকাল ভোর থেকে গ্রামে গ্রামে ছিল উৎসবের আমেজ। হাজার হাজার নারী পুরুষ গতকাল উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হলেও বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে মানুষকে লাইন ধরতে দেখা গেছে। দুপুর পর্যন্ত অধিকাংশ কেন্দ্রেই ছিল ভোটারদের দীর্ঘলাইন। নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

গতকাল চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় সরজমিনে ঘুরে এবং প্রতিনিধিদের পাঠানো চিত্রে ভোটকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসব দেখা গেছে। উৎসাহ এবং উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মানুষ তাদের ৭ম পৃষ্ঠার ১ম কলাম

ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। অনেক অসুস্থ লোকজনকেও কষ্ট করে ভোটকেন্দ্রে আসতে দেখা গেছে।

তরুণ ভোটারদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে আসা বহু তরুণই ভোট দিয়ে আঙ্গুলে লাগানো অমোচনীয় কালির দাগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছে, নিজেদের উৎসাহ এবং নাগরিক অধিকার প্রয়োগে উচ্ছ্বসিত নানা শব্দমালা রচনা করেছে।

গতকাল সীতাকুণ্ডের জাফর নগর অপর্ণাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে মামুন নামের একজন তরুণ ভোটার জানান, ভোটার হয়েছি বেশ কয়েকবছর আগে। কিন্তু কোনোদিন ভোট দিতে পারিনি। এবারই জীবনের প্রথম ভোট দিলাম। নিজেকে দেশের একজন প্রকৃত নাগরিক বলে মনে হচ্ছে।

শারীরিকভাবে অসুস্থ অনেকেই ভোট দিতে কেন্দ্রে এসেছেন। মীরসরাইয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা একজন ট্রলিতে চড়ে ভোট দিতে এসেছেন। তিনি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে গত বেশ কিছুদিন যাবত

হাসপাতালের বিছানায় রয়েছেন। তিনি বলেন, আত্মীয় স্বজনরা না করলেও আমি মানিনি। ভোট দেয়ার জন্য এসে গেছি। বৃদ্ধ নুরুল আমিন হাঁটতে পারছিলেন না। লাঠিতে ভর দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এসে ভোট দেয়ার জন্য লাইন ধরেছেন সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড কেন্দ্রে। নিজের জীবনের শেষ ভোট হিসেবে ভোট দিতে এসেছেন বলে জানালেন তিনি। বললেন, বহুদিন তো ভোট দিতে পারিনি। হায়াত ফুরিয়ে এসেছে, আর হয়তো ভোট দেয়া হবে না। তাই কষ্ট হলেও এবার ভোটটি দিতে চলে এসেছি।

একজন বয়োবৃদ্ধ মহিলাকে কোলে চড়িয়ে নিয়ে এসেছেন পুত্র। সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে মাকে এভাবে ভোট দিতে নিয়ে আসা প্রসঙ্গে সাজেদুল ইসলাম বলেন, আমার মা ভোট দেয়ার জন্য বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছিলেন কয়েকদিন ধরে। তাই নিয়ে এলাম।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের ভোটগ্রহণের পরিবেশসহ সার্বিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জীবনে এতো সুন্দর একটি ভোট উৎসব দেখবো কোনোদিন কল্পনাও করিনি। তিনি নিজের জীবনে দেখা সেরা ভোটানুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করলেন বলে জানান।

গতকাল মফস্বলের বিভিন্ন গ্রামে ভোটকেন্দ্রগুলোতে অত্যন্ত সুশৃংখল পরিবেশ দেখা গেছে। বিভিন্ন প্রার্থীর লোকজন ভোটারদের নম্বর এবং বুথের নাম বের করে দিচ্ছিলেন। সব প্রার্থীর লোকজনের মাঝে দেখা গেছে সৌহার্দ্য।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকক্সবাজারের চার আসনে বিএনপির জয়
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে উৎসবমুখর ভোট