নগরীর হালিশহরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্যাস লিকের কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে হালিশহরের এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের পর আগুন লাগে। এতে একই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ হন। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের ৬ জনের মৃত্যু হয়।
ওই ঘটনার পর বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, গ্যাস লিক থেকে সেই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পরে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কেজিডিসিএল ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সে সময় আলাদা তদন্ত কমিটি করা হয়। কেজিডিসিএলের চার সদস্যের তদন্ত কমিটি সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনাস্থলে গ্যাস লিকের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, রান্নাঘরের চুলা, নব, পাইপলাইন বা অন্যান্য উপকরণে গ্যাসজনিত বিস্ফোরণের কোনো চিহ্ন নেই। সাধারণত গ্যাস লিক হলে এসব জায়গায় ক্ষতির স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, কিন্তু এখানে তা অনুপস্থিত।
তদন্তে আরো উঠে এসেছে, ওই ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া একটি মোটর গ্যারেজের মালিক। বাসার ভেতরে গাড়ির এসির কম্প্রেসর, গাড়ি রং করার রাসায়নিকভর্তি ড্রাম এবং ব্যাটারির মতো দাহ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ উপকরণ রাখা ছিল, যেগুলো বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ বা এসব রাসায়নিক পদার্থের কোনো বিক্রিয়া থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি আরো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বাসাবাড়িতে দাহ্য রাসায়নিক সংরক্ষণ ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে।
বিডিনিউজ জানায়, কমিটির প্রধান কেজিডিসিএলের উত্তর বিতরণ বিভাগের উপ–মহাব্যবস্থাপক মো. রফিক খান বলেন, আমরা আমাদের প্রতিবেদন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে জমা দিয়েছি। প্রতিবেদনে বিস্ফোরণ এবং প্রতিরোধে করণীয় উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই ঘটনায় দগ্ধ তিন শিশু এখনো ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা হলো মারা যাওয়া গৃহকর্তা শাখাওয়াতের মেয়ে উম্মে আয়মান (১০), শাখাওয়াতের ছোট ভাই সামিরের দুই সন্তান ফারহান (৬) ও আয়েশা (৪)। চিকিৎসকরা তাদেরকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।












